চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সীমিত অনুমোদন পেল বুয়েটের ‘অক্সিজেট’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সংকটাপন্ন রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত যন্ত্র ‘অক্সিজেট’ উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য ‘সীমিত’ অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

প্রাথমিকভাবে যন্ত্রটির ২০০ ইউনিট উৎপাদন করে তা ব্যবহার করা যাবে। এ যন্ত্রের মাধ্যমে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদেরও হাসপাতালের সাধারণ বেডে রেখেই উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন-সহায়তা দেওয়া যায় বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ডিজিডিএ’র উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘জরুরি ব্যবহারের জন্য স্বল্পসংখ্যক অক্সিজেটের (২০০ ইউনিট) সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের জন্য। এটি অনেকটা ট্রায়ালের অংশ। অক্সিজেটের পোস্ট–মার্কেটিং ভিজিল্যান্স (বিপণন-পরবর্তী সতর্কতা) করতে হবে। প্রত্যেক রোগীর তথ্য রাখতে হবে। দেখতে হবে যে এতে রোগীর উপকার হচ্ছে কি না, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না কিংবা কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না। যন্ত্রটি আরও উন্নত করা যায় কি না, তাও দেখতে হবে। এই সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে বড় আকারে যন্ত্রটির অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

চিকিৎসা ও উদ্ভাবনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের হাসপাতালগুলোর সাধারণ বেডে রোগীকে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া যায়। তার বেশি অক্সিজেনের দরকার হলে ‘হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা’ লাগে। কিংবা রোগীকে আইসিইউতে নিতে হয়। কিন্তু বিশেষ ওই ক্যানুলা ও আইসিইউ উভয়ের সংকট থাকায় অনেক রোগীকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে অক্সিজেটের ব্যবহার বেশ কার্যকর বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, এ যন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ বেডে রেখেই রোগীকে ৬০ লিটার পর্যন্ত উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা ও উদ্ভাবনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রোগীদের উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন দেওয়ার জন্য বাজারে যেসব সিপ্যাপ ডিভাইস আছে, সেগুলোর দাম ১ লাখ বা তার চেয়ে বেশি। হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে অক্সিজেটের পুরো সেটআপ মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে এ খরচ আরও কমে আসবে বলে দাবি উদ্ভাবকদের। তা ছাড়া অক্সিজেটের ব্যবহারকৌশল সহজ। এটি সহজে যেকোনো জায়গায় বহনযোগ্য।

দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর গত বছরের মে-জুন মাসের দিকে অক্সিজেট নিয়ে কাজ শুরু করেন বুয়েটের একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী। চার শিক্ষার্থী হলেন মীমনুর রশিদ, ফারহান মুহিব, কায়সার আহমেদ ও কাওসার আহমেদ। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা করেন জৈব চিকিৎসা প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ তারিক আরাফাত, সহকারী অধ্যাপক জাহিদ ফেরদৌস ও সাঈদুর রহমান।

প্রায় ১০ মাস গবেষণার পর সিপ্যাপ ভেন্টিলেটর যন্ত্র আবিষ্কার করেন বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি দল। যার নাম দেওয়া হয় অক্সিজেট। যন্ত্রটি সহজে ব্যবহার ও বহনযোগ্য। এটি পরিচালনায় বিদ্যুতেরও প্রয়োজন হয় না। গত মে মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অক্সিজেটের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়।

অক্সিজেট উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়া বুয়েট শিক্ষক তওফিক হাসান বলেন, অক্সিজেটকে ১৫ লিটার অক্সিজেন ফ্লো-মিটারের সঙ্গে যুক্ত করলে পরিবেশ থেকে আরও বাতাস যুক্ত করে ৬০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেনযুক্ত বাতাস তৈরি করতে পারে। হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেটের ব্যবহার শুরু হলে আইসিইউ সেবার জন্য রোগীদের চাপ কমবে।