চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিয়ামের আধ্যাত্মিক চেতনা

সিয়াম মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক বিশেষ ইবাদত। সে কারণে সিয়াম সাধনার আধ্যাত্মিক কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। নবী ও রাসূলগণ তাদের জীবনের বড় বড় নেয়ামত প্রাপ্তির সময়গুলোতে সিয়াম অবস্থায় ছিলেন, এমনটাই বিভিন্ন হাদীসে পাওয়া যায়।

হযরত মুসা (আ.)–এর কথাই যদি বলি। বিশেষ সান্নিধ্য প্রদান করার জন্য আল্লাহ পাক তাঁকে ‘তুর’ পাহাড়ে যেতে বললেন। ৩০ দিনের প্রাথমিক ওই সাধনা সিয়ামের অধ্যাত্বিক বৈশিষ্টের কারণে আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ৪০ দিন করলেন এবং পুরো ৪০ দিনই তিনি সিয়াম অবস্থায় ছিলেন।

সহি বুখারীসহ হাদীসের কিতাবে বর্ণিত আছে, ‘সিয়াম পালনকারীর মুখের লালা আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়েও আরও বেশি সুগন্ধময়।’ এটা মূলত সিয়ামের আধ্যাত্বিক চেতনার ফসল। ইসলামের সকল ইবাদতের মধ্যেই আধ্যাত্বিক চেতনা বিদ্যমান এবং সঠিক আকিদা ও বিশ্বাস নিয়ে একজন ইমানদার যদি সাধনা চালিয়ে যান, তাহলে তার প্রাত্যহিক কর্মেও ঐ আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়।

এক সাহাবী সূরা ফাতিহা পড়ে একজন সাপে দংশন কার রোগীকে ফুঁ দেওয়ার কারণে ওই ব্যাক্তি আরোগ্য লাভ করেছেন বলে সহি বুখারীর হাদীসে পাওয়া যায়। আসলে আধ্যাত্বিকতার মূল ভিত্তি সঠিক আকিদা ও ইখলাস সমৃদ্ধ আমলের ওপর। একজন রোজাদার সারাদিন পানাহার পরিত্যাগ করে থাকা। নিভৃত্বে কোথাও খাবার গ্রহন করার সুযোগ থাকলেও সে তা করে না। কারণ সে বিশ্বাস করে আল্লাহ নিশ্চয় দেখছেন।

সর্বদ্রষ্টা মহান আল্লাহ নিষেধ করেছেন দিনের বেলায় পানাহার গ্রহন করতে। চরম ক্ষুধা-তৃষ্ণা সত্বেও সে পানাহার করে না ওই বিশ্বাসর কারণেই। ক্ষুধা তৃষ্ণার তীব্রতা থেকে তার আত্মার ঐ বিশ্বাসের গভীরতা ও শক্তি অনেক গুন বেশী বলেই সে সংযম পালন করে। সিয়ামের আধ্যাত্বিকতাটা এই জায়গায়ই। অদৃশ্য প্রভুর বিশ্বাসগত উপস্থিতির বীজ বপন করে দেয় বান্দার সিয়াম এবং অদৃশ্য প্রভুর প্রতি এই বিশ্বাস দীর্ঘ একমাস ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয় যা অন্যান্য গুনাহ ও অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

আর ইসলামে অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনই ইমানের শেষ কথা। পবিত্র কোরআনের শুরুতেই সে কারণেই ইমানদারের বৈশিষ্ট বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, ‘যারা না দেখা বিষয় বস্তুর উপর বিশ্বাস করে।’ মূলত ইসলামের বিশ্বাসগত চেতনা অন্যান্য ধর্ম-বিশ্বাসের বস্তগত প্রেরণা থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ। সিয়াম সাধনা মুমিনকে সেই চেতনায় শানিত করে জান্নাতে যাত্রী হওয়ার যোগ্যতা দান করে। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের পথে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে দেয়। আল্লাহর সেই নিবিড় সান্নিধ্যের কথাই পবিত্র হাদীস শরীফে বিধৃত হয়েছে। রোজাদারের দুটি আনন্দ আছে-একটি ইফতারের সময় এবং অন্যটি প্রভুর সাথে মোলাকাতের সময়। (বুখারী) মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করার সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক উপাধ্যক্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা