চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিবিআইইউ: ২০ দফা দাবি আদায়ে সোচ্চার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ ২০ দফা দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সব আন্দোলনে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (সিবিআইইউ) শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন অভিভাবকরা।

আজ বুধবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সিবিআইইউ’র সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজিত “অভিভাবক সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন” এ এমন ঘোষণা দেন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মলনে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, ‘ আমরা আমাদের প্রিয় সন্তান এবং ভাই বোনদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সিবিআইইউতে ভর্তি করিয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আমাদের সাথে চরম বেইমানি করছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত উপাচার্য। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটগুলো মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় পাশকৃত শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা এবং চাকরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম নিয়ে আমাদের সন্তানরা দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাদের সেই আন্দোলনে সাড়া দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ( ইউজিসি ) ১৬ শর্ত পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। এই শর্তসমূহ পালনে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে ১ বছরের জন্য নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইউজিসি। যা আমাদের অভিভাবকদের জন্য একটি অশনিসংকেত। কিন্তু পরিতাপের বিষয়  শিক্ষার্থীদের আওয়াজ ইউজিসি’র কানে গেলেও ঘুম ভাঙ্গেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

অভিভাবক সমাবেশে অভিভাবকরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ৩১ আগস্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে  ২০ দফা দাবি আদায়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে শিক্ষার্থীর উপর ক্ষোভে ফেটে পরে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ জন শিক্ষার্থীকে শোকজ দেখানোর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে হুমকি দেয়ার পাশপাশি অভিভাবকদেরও সাথে ফোনে অশ্লীল ব্যবহার  করেছে কতৃপক্ষ যা লজ্জাজনক। ফলে আমরা আমাদের সন্তানদের সুরক্ষা নিয়েও ভয়ে আছি। আমরা এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।  তাই আজ আমরা শিক্ষার্থীদের নায্য দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আপনাদের মুখোমুখি হয়েছি।”

অভিভাবকরা বলেন , শিক্ষার্থীরা ২০ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অতীতে আমরা অভিভাবকরা না থাকলেও ভবিষ্যতের সকল আন্দোলন সংগ্রামে তাদের পাশে থাকব। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীদের  নায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম কখনো রাজনৈতিক হতে পারে না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত উপচার্য ও কোষধ্যক্ষ প্রদানসহ শিক্ষার্থীদের সকল দাবী মেনে নিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে।