চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিনেমা শিল্পে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা উচিত: আসিফ

রুপালী পর্দার আগের সেই জৌলুস নেই। সোনালী গৌরব আজ হারাতে যাচ্ছে। একে একে বন্ধ হচ্ছে দেশের সিনেমা হল। এরমধ্যেও নানা সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের সিনেমাকে সকল প্রতিকূলতার কাণ্ডারি হয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন শাকিব খান!  শুধুমাত্র শাকিব আছে বলেই সিনেমা এখনো টিকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর।

অডিও গানের পাশাপাশি প্লে-ব্যাকেও সফল আসিফ আকবর। দেড় দশক ধরে তিনি সিনেমায় গান করেছেন। সেসব গান জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। আসিফের গান নিয়েও নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’। সমসাময়িক দিক তুলে আসিফ প্রায় তার ফেসবুক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালিখি করেন। এবার তিনি লিখলেন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে।

মঙ্গলবার আসিফ তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি ও পেজে একটি স্ট্যাটাসে অকপটে উল্লেখ করেছেন, কাউকে ছোট করছি না। আমার মনে হয়েছে শুধুমাত্র শাকিব খানের জন্যই এদেশে এখনো সিনেমা ব্যবসা টিকে আছে। কতদিন থাকবে সেই ব্যাপারে অবশ্য নিশ্চিত না!

গানের পাশাপাশি আসিফ আকবর অভিনয়ও করেছেন সিনেমাতেও। গত ২০ ডিসেম্বর প্রথমবার তার অভিনীত সংগীত নির্ভর সিনেমা ‘গহীনের গান’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি মুক্তির কারণে আসিফ হলে হলে প্রচারণায় সময় দিয়েছেন একমাস। খুব কাছ থেকে দেখেছেন দেশের সিনেমা হলের পরিবেশ। সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ।

বিজ্ঞাপন

আসিফ তার দেয়া পোস্টে এ দিকটিও তুলে ধরে লিখেছেন, ‘গহীনের গান’ সিনেমাটির প্রচারে ছিলাম টানা একমাস। কথা ছিল টিমের সবাই একসাথে ক্যাম্পেইনে যাবো। দুই তিন দিন যাওয়ার পর উইকেট পতন শুরু হলো। আমি জানি সময় মেইনটেইন করে এসব জার্নি অনেক ঝক্কির। আমার স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড তাই অভিজ্ঞতার আলোকে দীর্ঘ সফরের প্ল্যান করেছি। ক্যারিয়ারের শুরুতে যখন প্রচুর শো করতাম তখনই দেখেছি আমার রানিংমেটরা বেশিদিন এনার্জি নিয়ে সফরে যেতে পারছে না। নানারকম অজুহাতে তারা সফরে যেতে চাইতো না। সিনেমার প্রচারে একপর্যায়ে সবাই রণে ভঙ্গ দিলেও আমি শেষ পর্যন্ত ছিলাম। শেষ দেখতে চাওয়ার একটা তাড়না সবসময় আমার মধ্যে কাজ করে।

তারকা এই গায়ক আরো লিখেন, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে সিনেমা হলগুলোর অবস্থা জানারও আগ্রহ ছিল প্রচণ্ড। হাতে গোনা কিছু হল ছাড়া অধিকাংশ হলে গিয়েই হতাশ হয়েছি। সিনেপ্লেক্স কিংবা সেনানিবাসের হলগুলোর বাইরে কোন হল আপ টু দ্য মার্ক পাইনি যেখানে ফ্যামিলিসহ মুভি দেখার পরিবেশ আছে। হলগুলোর উপর থেকে নীচের থার্ডক্লাস পর্যন্ত অপরিস্কার এবং দুর্গন্ধযুক্ত পুতিময়। ভাল ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা নেই। মহিলা শিশুদের হলে টিকে থাকার কোন পরিবেশ নেই। চেয়ার টুলের কোন স্ট্যান্ডার্ড নেই। খরচ বাঁচাতে কিংবা সিন্ডিকেটের খপ্পর থেকে বাঁচতে প্রায় সব হলেই পেন ড্রাইভ দিয়ে শো চালায়। এতে করে ছবির কালার এবং সাউন্ডের কোন কোয়ালিটিই থাকেনা। সত্যি বলতে মানুষ হলে কেন যাবে সেটার কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি।

সবশেষে আসিফ লিখেছেন, ঈদের সময় হয়তো দু-একটি বাণিজ্যিক ছবি সফল হয়। পেপারে দেখি একশোর উপর হলে মুক্তি পেয়েছে অমুক ছবি। বেশি হল পাওয়া মানেই সিনেমাটার খবর ভাল। আমার পর্যবেক্ষণে এটা একটা স্টান্টবাজী। প্রধান জেলা শহরগুলোতে হল নেই। থাকলেও অবস্থা তথৈবচ। সিনেপ্লেক্সের প্রবেশমূল্য আর মফস্বলে হলের পরিবেশে আমি নিশ্চিত হয়ে গেছি একটি বিশেষ শ্রেণির দর্শক এখনো হলগুলো টিকিয়ে রেখেছেন। সিনেপ্লেক্সের জন্য বিদেশি ছবি আর লোকাল হলগুলোর জন্য শাকিবের ছবি। কাউকে ছোট করছি না, আমার মনে হয়েছে শুধুমাত্র শাকিব খানের জন্যই এদেশে সিনেমা ব্যবসা এখনও টিকে আছে। কতদিন থাকবে সেই ব্যাপারে অবশ্য নিশ্চিত না!

শেষে আসিফ বলেন, শুধু বলবো বাংলাদেশের সিনেমার ভবিষ্যৎ চোরাবালিতে ক্রমশই ডুবছে, প্রায় ডুবেই গেছে। জীবনের টানাপোড়েনের হিসেবে যাদের একমাত্র বিনোদন সিনেমা, সেই মধ্যবিত্তই এখন হলবিমুখ। সিনেমা শিল্পে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা উচিত। যারা জেনুইন সিনেমার মানুষ তাদের হাতে সিনেমার ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় শত চেষ্টায়ও এই ভয়াবহ কোমা থেকে সিনেমাকে বাঁচানো অসম্ভব!

বিজ্ঞাপন