চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিনেমার টানে আবারও দেশের বাইরে চঞ্চল, গন্তব্য মুম্বাই

১১ বছর আগে ‘মনের মানুষ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে দেশের বাইরে প্রথমবার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন চঞ্চল চৌধুরী

চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ফকির লালন শাহকে নিয়ে নির্মিত ‘মনের মানুষ’ সিনেমার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? ১১ বছর আগে ওই সিনেমার জন্য প্রথম দেশের বাইরে (পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি) শুটিং করেছিলেন এ অভিনেতা। ঠিক ১১ বছর পর আবারও সিনেমার জন্য দেশের বাইরে ‘তাকদির’ খ্যাত চঞ্চল।

এবার গন্তব্য ভারতের মুম্বাই শহর। বিখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘বঙ্গবন্ধু’তে অভিনয় করতেই এবার এই নতুন যাত্রা তার।

বিজ্ঞাপন

সিনেমার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার এবারের অভিজ্ঞতা অভিনেতা চঞ্চলকে কিছুটা আবেগপ্রবণ করেছে। দেশ ছাড়ার আগে তিনি ফেসবুক পোস্টে সেই আবেগের কিছুটা জানান দেন।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে মুম্বাই যান মনপুরা, আয়নাবাজি খ্যাত এ অভিনেতা। যাওয়ার আগে ফেসবুকে তিনি লেখেন, ১১ বছর আগে, ফকির লালন শাহকে নিয়ে প্রখ্যাত নির্মাতা গৌতম ঘোষ নির্মাণ করেছিলেন ‘মনের মানুষ’। সেই সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে, দেশের বাইরে প্রথম শিলিগুড়ির চিলাপাতা ফরেস্টে দীর্ঘদিন শুটিং করেছিলাম। ঠিক ১১ বছর পর, তেমনি এক শীতের সকালে,

মুম্বাই যাচ্ছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমায় অভিনয় করতে। সিনেমাটি নির্মাণ করবেন, উপমহাদেশের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।

তিনি আরো বলেন, লালনের গানের বাণী আর সুর যেমন বাঙালী স্বত্বার অন্যতম দর্শন, তেমনি বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, দেশপ্রেম বাঙালী জাতি হিসেবে সারা বিশ্বে আমাদের গর্বিত আত্মপরিচয়। বাঙালীর জয় হোক,
বাংলার জয় হোক। জয় বাংলা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমানের মাঝ বয়সী চরিত্রে অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। কদিন আগে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চঞ্চল বলেছিলেন, যখনই নিশ্চিত হয়েছিলেন তখন থেকেই মোটামুটি প্রস্তুতি চলছে। চরিত্রের জন্য যা যা প্রয়োজন মোটামুটি জেনেছেন। চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ ছিল গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা।

অন্যান্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আগে পিছনে অনেককিছু ভেবে মাঠে নামেন চঞ্চল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক করার সুযোগ পাওয়ার আগে পিছে ভাবার অবকাশ নেই মনে বলেও জানিয়ে ছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন ইমোশনের জায়গা। তিনি রাজনীতির উর্দ্ধে। তাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চলচ্চিত্র হচ্ছে। এতে তার পরিচিতি, জীবনী কর্ম বিশ্বব্যাপী আরও বেশি ছড়িয়ে যাবে। এমন কাজ আরো আগে হওয়া উচিত ছিল। যেটা পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে বায়োপিক হয়েছে। আমাদের দেশে দেরিতে হলেও হচ্ছে এটাই ভালো লাগার বিষয়। এখানে কাজের জন্য অন্যকিছুর হিসেব করিনি। চলচ্চিত্রটি ইতিহাসের অংশ হবে সেখানে অংশগ্রহণ করার লোভ সবারই আছে।

বিজ্ঞাপন