চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিনহা হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

মিডিয়া ট্রয়াল থেকে সতর্ক থাকতে আদালতের নির্দেশ

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার দ্বিতীয় দফা সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ এ মামলার ৪ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

গতকাল তিন নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে মিডিয়া ট্রয়াল থেকে সতর্ক থাকতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকেই কড়া প্রহরায় সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সহ ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

আজ সকাল ১০টার কিছু পর থেকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথমেই সাক্ষীর জবানবন্দি তারপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় বলে সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান: আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে উক্ত মামলা নিয়ে আদালতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলতে। যাতে কোন মিডিয়ার ট্রায়াল না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে আদালত।

বিজ্ঞাপন

আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত জানান: সুষ্ঠু ও ন্যায়ার বিচারের স্বার্থে আদালত চান না উক্ত মামলার বিষয়গুলো মিডিয়ায় আসুক। সুতরাং এ ব্যাপারে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় সেসময় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা করে। এরপর মেজর সিনহা নিহতের ছয় দিন পর লিয়াকত আলী ও ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারি আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ২৪ জুন মামলার অন্য পলাতক আসামী টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আসামীদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ জন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত শেষে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা তৎকালীন র‌্যাব ১৫-এর সহকারি পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

বিজ্ঞাপন