চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিনহা হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ

২ মামলায় সিফাতকে অব্যাহতি

মেজর (অব.) সিনহা হত্যার ঘটনায় তার বোনের দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিট আদালত গ্রহণ করেছেন। এতে পলাতক আসামী টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া একই ঘটনায় টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় দাখিল করা চুড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামী সাইদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রাকে মামলা থেকে আদালত অব্যাহত দিয়েছেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কক্সবাজারের জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহর আদালত এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত। একই সঙ্গে এ মামলার পলাতক আসামী এএসআই সাগর দেবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়াও টেকনাফ থানা পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামী সিফাত ও শিপ্রাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দীর্ঘ চার মাস আট দিন তদন্ত শেষে টেকনাফ থানার আলোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে আসামী করে চার্জশিট দেয় র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম। এএসআই সাগর দেব পলাতক বলে উল্লেখ্য করা হয় ওই চার্জশিটে।

বিজ্ঞাপন

গত ৩১ জুলাই টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় সিফাতের বিরুদ্ধে ২টি এবং রামু থানায় শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে ১টি মামলা দায়ের করে।

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়েছে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামী করে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয় জন পুলিশ সদস্যকে আসামী করা হয়। আদালত মামলাটির তদন্ত করার আদেশ দেন র‌্যাবকে।

এরপর গত ৬ আগস্ট প্রধান আসামী লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

পরবর্তীতে সিনহা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে পুলিশের দায়ের মামলার ৩ জন স্বাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের ( এপিবিএন ) ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এছাড়া একই অভিযোগে পরে গ্রেপ্তার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক সদস্য কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও।

মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১৪ আসামীদের র‌্যাবের তদন্তকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদের মধ্যে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া ১২ জন আসামী আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন