চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিনহা হত্যা: পুলিশের ৩ সাক্ষী গ্রেপ্তার

সাবেক সেনাকর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের বাহারছড়া এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। তারা সবাই ঘটনার পর পুলিশের করা মামলার সাক্ষী। 

মঙ্গলবার বিকালে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করে বলেন, আজ টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আয়াছ ও নাজিম উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের বিশেষায়িত এই সংস্থাটি বলছে, আত্মসমর্পণ করা ৭ আসামির সবাইকে রিমান্ডে নিতে নতুন করে আবেদন করা হবে। ঘটনার সাক্ষী সিফাত ও শ্রিপার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে গত দুইদিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে ঘটনার দিন প্রত্যেকেই বাহারছড়া কেন্দ্রে চেকপোষ্টে দায়িত্বরত ছিলেন।’

‘‘এছাড়াও তারা ঘটনার বিষয় বিস্তারিত খুঁটিনাটি তথ্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বাহারছড়া চেকপোস্টে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যরাও ছিলেন। বিস্তারিত তথ্য তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না।’’

তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলার মুল আসামি বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও উপ-পরিদর্শক নন্দ লাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তদন্ত কর্মকর্তা প্রস্তুত রয়েছে। তবে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষী সিফাত ও শিপ্রাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’

জব্দ আলামতগুলো উদ্ধারে কি ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব? জানতে চাইলে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘মূলত সিফাত ও শিপ্রার বিরুদ্ধে যে তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, ওই তিনটি মামলার পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে সিজার লিষ্ট (জব্দ তলিকা) ধরে সব আলামত র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা বুঝে নেবেন।’

বিজ্ঞাপন

‘‘ওই সিজার লিষ্টে তাদের যেসব জিনিসের বিষয় উল্লেখ নেই, যেমন গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, (ল্যাপটপ, ক্যামেরা) এসবের বিষয় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পূর্বে সাক্ষীদের কাছ থেকে জানতে চাই। কোনো সংবাদের উপর ভিত্তি না করে, স্বাক্ষীদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে তদন্ত কর্মকর্তা সেগুলো উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সাক্ষী শিপ্রা দেবনাথকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে শিপ্রা একটি স্পর্শকাতর কথা বলেছেন, এটি তার জীবনে ঘটে যাওয় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এটি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তিনি এর বিচার দেখে যেতে চান। প্রয়োজনে ন্যায় বিচারের স্বার্থে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, ‘মামলার প্রধান সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রা দুজনই বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের অনতিবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

ফোনালাপ ফাঁসের বিষয় তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘটনা সংক্রান্ত যে সকল ফোনালাপ প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করে সত্যতা পেয়েছি। আরও পর্যালোচনার পর তদন্ত কর্মকর্তা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।’

আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফে অনাকাঙ্খিত যে ঘটনাটি ঘটেছে। সে বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেক বিভ্রান্তিমুলক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান।

৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পরদিন ৬ আগস্ট বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপসহ সাত আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।