চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিনহা হত্যা: দ্রুত তদন্ত ও বিচার চান অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তারা

একই দাবি পরিবারেরও

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত করার দাবি জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তাদের সংগঠন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ও সিনহার পরিবার।

সোমবার মেজর (অব.) সিনহার উত্তরার বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার পর এমন দাবি করেন অবসর নেয়া সেনাকর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

তার আগে সকালে নিহত সিনহার মা নাসিমা আক্তারসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন রাওয়ার নেতারা।

রাওয়ার চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার নুরুল আফসার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে চলে গিয়েছে তাকে ফিরিয়ে আনতে আমরা পারবো না। কিন্তু আমার বিশ্বাস, যদি তার এই অন্যায় হত্যার বিচার হয় তবে হয়তো সিনহার মা কিছুটা হলেও শান্তি খুঁজে পাবেন।’

সেসময় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার হত্যার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তার পরিবার এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়া।

বিচার প্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘায়িত না হয় সে দাবি জানিয়ে কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনকে প্রত্যাহারেও আহ্বান জানান রাওয়ার চেয়ারম্যান।

বিজ্ঞাপন

খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যেটা দেখছি, সরকারের যে মনোভাব, প্রশাসনের মনোভাব, তাতে সিনহার মা-বোন খুশি, রাওয়াও খুশি। তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনকে প্রত্যাহার করতে হবে।

‘‘আমরা চাই, দেশে এমন আর একটিও হত্যাকাণ্ড যেন না হয়। সিনহা হত্যাকাণ্ডে যেসব পুলিশ সদস্য জড়িত ছিলেন, তাদের অস্ত্র জব্দ করা হোক। সিনহা হত্যার বিচারটা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সিনহা কিংবা তার মতো যারা ভুক্তভোগী, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হোক।’’

সিনহা হত্যাকাণ্ডে বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তার নাসিমা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে সব সময় বলত, বি পজিটিভ। আমিও বি পজিটিভের কথা বলব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেনা বাহিনীর প্রধান, নৌ-বাহিনীর প্রধান আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রত্যেক মায়ের প্রতিনিধি হিসেবে বলব, এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে যেন আর না হয়। এ ব্যাপারে প্রত্যেকে যেন সচেতন থাকে।’

গত ৩১ জুলাই রাত ৯টা ২৫ মিনিটে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে মেজর (অব.) সিনহাকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

ওই ঘটনায় করা মামলায় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাতজন গ্রেপ্তার হন।