চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিএনজি চালিত বাস মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘট তৃতীয় দিনে এসে শেষ হলো। এই সময়ে সারাদেশে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ আর অসহনীয় কষ্টের মধ্যে দু’দিন পার করলেও সেই ধর্মঘট নিরসনে কাউকে কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি। তবে তৃতীয় দিনে এসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এবং মালিকপক্ষ বৈঠকে বসে।

ওই বৈঠকে বাস মালিকরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী দেওয়া প্রস্তাবে মহানগরীতে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪১ শতাংশ বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা এবং মিনিবাসে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করতে। আর দূরপাল্লার বাস ভাড়া ৪১ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা করার দাবি করে।

এ নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকের পর বিআরটিএ মহানগরীতে ২ টাকা ১৫ পয়সা আর দূরপাল্লায় ১ টাকা ৮০ পয়সা করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। যা আগামীকাল থেকেই কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই সাথে ধর্মঘটও তুলে দেওয়ার কথা জানান বাস মালিকরা। তবে বর্ধিত এই ভাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে বা সিএনজি চালিত গণপরিবহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে জানায় বিআরটিএ।

বিজ্ঞাপন

আমাদের প্রশ্ন- তাহলে এই তিনদিন সিএনজি চালিত বাস বন্ধ রাখা হলো কেন? তাদের কারণে দেশের কোটি মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হলো কেন? কেন বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ পরীক্ষার্থীকে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিতে হলো? এর জবাব কে দেবে?

দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা রোববার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা শহরের প্রায় ৯৫ শতাংশ বাস এবং দূরপাল্লার ৬০ শতাংশ বাসই চলে সিএনজিতে। তাহলে ডিজেলের দাম বাড়লে সিএনজি চালিত বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবি কতটা যৌক্তিক? যদিও বাস মালিকদের মিথ্যা ও হাস্যকর দাবি, মাত্র ১ শতাংশ বাস চলে সিএনজিতে! কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে এমন মিথ্যাচার ধোপে টেকে না।

আসলে এমন মিথ্যাচার করে যুগের পর যুগ গণপরিবহন মালিকরা বিশেষ করে বাস মালিকরা জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে যাচ্ছে। বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় প্রকৃত আসন সংখ্যার চেয়েও কমে দেখিয়ে এবং ‘সিটিং’ বলে। কিন্তু বাস্তবে দূরপাল্লার ছাড়া কোনো বাসই ‘সিটিং সার্ভিস’ থাকে না। গায়ে গা লাগিয়ে যাত্রীদের দাঁড় করিয়ে নেওয়া হয়। তখন আবার পরিবহনের সঙ্কটের কথা বলে বিআরটিএ-ও মালিদের সুরে সুর মেলায়।

আমরা মনে করি, মালিকদের দাবি মানার পর কর্তৃপক্ষ এবার যাত্রী সেবার দিকে নজর দিক। আর অযৌক্তিকভাবে বাস বন্ধ রাখায় সিএনজি চালিত বাস মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক।

বিজ্ঞাপন