চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

সিইসি’র আশাবাদ বাস্তব হোক

Nagod
Bkash July

নানা কারণে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে চলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বেহাল চিত্র জাতির সামনে উঠে আসার পরে পরেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা দিয়েছে এই সিটি নির্বাচন। প্রার্থীদের মধ্যে চলা বিতর্ক, বহিষ্কার ও নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে সমর্থনসহ নানা বিষয় সামনে চলে আসছে।

Reneta June

এই অবস্থায় ১৬ জানুয়ারি হতে যাওয়া নাসিক নির্বাচনের ভোটের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে জানিয়ে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ রেখেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। ‘ভোটারের থেকে নিরাপত্তা বাহিনী বেশি থাকবে। পুলিশের বিশেষ বাহিনী এদিন ভোট কেন্দ্রগুলো পাহারা দেবে। দেশবাসী ভালো ভোট দেখবে।’, বলেও জানান তিনি। নারায়ণগঞ্জে গিয়ে তিনি এসব বলেছেন।

আরেকটি বিষয় লক্ষনীয়, সিইসি নিজমুখে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের নির্বাচনের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করলেও তা ‘শাস্তিযোগ্য নয়’ বলে বক্তব্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে।

প্রিজাইডিং অফিসারের ক্ষমতা ও ইভিএম নিয়েও সিইসি বিভিন্ন গতানুগতিক বক্তব্য রেখেছেন। যা আসলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে হবার বিষয়ে কতোটা কার্যকর হবে, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। কারণ এধরণের বক্তব্য উনি বা নির্বাচন কমিশন দেশের প্রতিটি নির্বাচনের আগেই দিয়েছেন অতীতে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনসহ দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে সহিংসতামুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেছে উৎকন্ঠা, সহিংসতা, হানাহানি ও হতাহতের মাত্রা নতুনভাবে যোগ হয়েছে।

কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ এবছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। নতুন ইসি গঠনের বিষয়ে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেশের সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংলাপ শুরু হয়েছে। যদিও তা নিয়ে ইতিমধ্যে নানা নেতিবাচক আলোচনা-সামলোচনা শুরু হয়েছে।

দেশের মানুষ নির্বাচন পছন্দ করেন এবং ভোটের মাধ্যমে মতপ্রকাশ করার এই সংস্কৃতি দেশের গণতন্ত্রের জন্য আশাবাদের একটি জায়গা। আর এই নির্বাচন কার্যপরিচালনা করা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু বিগত কিছু নির্বাচনের কারণে জনমনে নানা আশঙ্কা আর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বতর্মান ইসির গ্রহণযোগ্যতা ও সক্ষমতা নিয়ে খোদ ইসির ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। সেজন্য সামনের মেয়াদের ইসি বিভিন্ন কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর বর্তমান ইসির অধীনে নাসিক নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা হলে তা একটি ইস্যু হিসেবে সামনে চলে আসতে পারে বলে আমাদের ধারণা।

সব কথার শেষ কথা, জনগণ যেনো তাদের নাগরিক অধিকারের অংশ ভোট ঠিকভাবে প্রদানের পরিবেশ পায়। আর নাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে সেই পরিবেশ ফেরানোর একটি বাস্তবিক ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করতে পারে দেশের ভবিষ্যত নির্বাচনের পরিবেশ। বর্তমান ইসি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সরকারের সমর্থনে গণতান্ত্রিক পরিবেশে আসুক ইতিবাচক পরিবর্তন, এই আমাদের আশাবাদ।

BSH
Bellow Post-Green View