চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সাহায্য চাইতে না পারা’ চল্লিশ পরিবারের পাশে অবনী

করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে লকডাউনে সারাদেশ। ঘরবন্দি দেশের মানুষ। সামর্থবানরা ভালো থাকার চেষ্টায় আছেন, সামর্থহীনদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিড়ম্বনায় আছেন সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি।

আত্মসম্মানের কারণে এ মানুষগুলো উপোষ থাকলেও হাত বাড়াতে পারছেন না। ‘সাহায্য চাইতে না পারা’ এমন ৪০ পরিবারকে দৈনিক খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছেন ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ মুনজারিন অবনী।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, শনিবার (৪ এপ্রিল) থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রথমদিনে তেঁজগাও বেগুনবাড়ি এলাকায় বসবাসরত ৪০ পরিবারের ঘরে গিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ, সাবান, পেঁয়াজ, চিড়া পৌঁছে দিয়েছি।

মুনজারিন অবনী লেখাপড়া করেছেন তেঁজগাওয়ের আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন থেকেই তার জানা আছে এ এলাকায় ড্রাইভার, শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য পেশার মানুষ বসবাস করেন। অবনী বলেন, যাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তাদের সম্পর্কে আগেই খোঁজখবর নিয়েছি। এই মানুষগুলো নিজেদের সম্মান অটুট রাখার জন্য অনাহারে থাকলেও সাহায্যের জন্য রাস্তায় বের হবে না। হয়তো কাউকে বলবেও না।

মুনজারিন অবনী বেছে বেছে এমন পরিবারের পাশে থাকছেন। তিনি বলেন, অনেক পরিবার রাস্তায়, গলির মুখে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে। কেউ কেউ একাধিকবার খাবার নিচ্ছে। কিন্তু মধ্যম শ্রেণীর মানুষগুলো কেউ কেউ কোনো খাবারই পাচ্ছে না। তারা আত্মসম্মানের ভয় পাচ্ছে। এ ভয়ে তারা ঘর থেকেই বের হচ্ছেনা। আমি এ ধরনের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমার কয়েকজন বন্ধু আমাকে তাদের খুঁজে বের কর‍তে সাহায্য করছে। আমরা তাদের ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি।

অবনী বলেন, যতদিন অফিস আদালত না খুলবে ততদিন চেষ্টা করবো এ মানুষগুলোর কাছে খাবার পৌঁছে দিতে। আমার টিমে আছে মোট ১০ জন। প্রতিদিন যেতে না পারলেও নিয়মিত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, অবশ্যই মানবিক চিন্তা থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছি। সামর্থ্যে কুলালে আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবো। এ অবস্থা কতদিন চলবে তা আমরা কেউ জানি না। অন্তত আগামী একমাস সামর্থ্যবান সবাই যদি চেষ্টা করি তাহলে পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোর ভালো থাকতে পারবে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচিত হন মুনজারিন অবনী। ডিসেম্বরে অবনী বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে প্রথমবার মার্কিন মুলুকের লাস ভেগাসে ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড’-এর চূড়ান্ত মঞ্চে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন।