চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ে ৫ জন নিহত, ৭ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত

কালবৈশাখী ঝড়ে কিশোরগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যুসহ গাইবান্ধা, নরসিংদীতে ১৩ জনের বেশি আহত হয়েছে। শনিবার রাতে কালবৈশাখীর ঝরে গাইবান্ধা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদীতে বিধ্বস্ত হয়েছে ৭ শতাধিক ঘরবাড়ী, গাছপালা ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বিঘা জমির ধান।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শনিবার রাত ১২ টার দিকে উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর, সোনাইডাঙ্গা, বিষপুকুর, হরিনাথপুর, মাঝিপাড়া, নয়াপাড়া, নতুন বাজার এলাকার ওপর দিয়ে আকস্মিক এই ঝড় বয়ে গেলে  ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও বিদ্যুৎ খুঁটি, গাছপালা ভেঙ্গে যাওয়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ঘর ও গাছের নিচে চাপা পড়ে ১০জন আহত হয়েছে।

খবর পেয়ে গাইবান্ধা ৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে তাৎক্ষনিক নগদ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করেন। এসময় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আকতারা বেগম, পিআইও আব্দুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ঝড়ের পর থেকে জেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

Advertisement

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর ও বাজিতপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে । এলাকায় ভেঙ্গে পড়েছে শত শত কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা। পাকুন্দয়া উপজেলার কাজীহাটি ফকির পাড়া গ্রামে রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় টিনের চালে গাছ ভেঙ্গে পড়লে গাছচাপায় মারা যান হযরত আলী ও তার শিশুপুত্র রিজন। কাজীরচর এবং বাজিতপুরে ঝড়ের সময় আব্দুল মান্নান এবং চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী লিমা গাছ চাপায় মারা যান । দাড়িয়াকান্দি এলাকায় সিএনজির ওপর গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে মারা যান শীতল বর্মন নামে এক যাত্রী।

নরসিংদীর শিবপুর মনোহরদী-বেলাবোতে কাল বৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরের চাঁপায় ৩ জন আহত হয়েছে। শনিবার রাতে শিবপুরের দুলালপুর গ্রামে ও মনোহরদীর লেবুতলা, চরমান্দালিয়া, চালাকচর, খিদিরপুর ইউনিয়ন ও বেলাবো উপজেলার শেখেরবাজার, কাটাবাড়িয়া, বাদশার বাজার, ছোটরিয়া, বিন্নাবাইদ ও শাহ ইরানীর মাজার এলাকা দিয়ে এই ঝড় বয়ে গেলে শত শত বিঘা জমির ধান, কলা বাগান ও আম-কাঠাল গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিধ্বস্ত হয় অর্ধশতাধিক কাঁচা বাড়ি ঘর।

ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদ হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। তবে ক্ষতির পরিমান এখনো নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি।