চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে

লকডাউন সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন জেলায় করোনা সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে অঞ্চলে ভারতীয় ধরনের করোনা ছড়িয়ে পড়ছে।হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা উপসর্গের রোগী। বাড়ছে শনাক্ত এবং মৃত্যুর হার।

রাজশাহীতে ৮ জনের মৃত্যু
রাজশাহী অঞ্চলের অধিকাংশ পৌরসভা ও উপজেলায় বিশেষ লকডাউনের পরও করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর হার। ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষা করে শনাক্তের হার হচ্ছে ৪০% শতাংশের ওপরে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ওয়ার্ডে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চাপাইনবাবগঞ্জের ৩ জন এবং রাজশাহীর ৫ জন। সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় চলমান লকডাউনের বিধিনিষেধে পরিবর্তন এসেছে। বিকেল ৫টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। চলছে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর বিভিন্ন মোড় মোড়ে করোনার র‌্যাপিড টেস্ট করা হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে সর্বশেষ ৪৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নাটোরে ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ৪৮জন, মৃত্যু ১
নাটোরের দুটি পৌরসভার সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে। কাঁচা পণ্য, ঔষধ ও মুদিখানা দোকান ছাড়া সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালতের টিম। সন্দেহজনক লোকজনকে রাস্তায় বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উত্তর সন্তোষজনক না হলে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এবং ৯টার দিকে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ সরজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নাটোর হাসপাতালে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৯ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে নাটোরে।

নওগাঁয় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৫২ জন
নওগাঁয় স্থানীয় জেলা প্রশাসন কর্ত্তৃক প্রদত্ত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন আজ শেষ হচ্ছে। যদিও পুলিশের প্রতিরোধের মুখেও আজ নওগাঁ শহরে ব্যপক যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। চলমান লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে কি না সে বিষয়ে প্রশাসন এখনও কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এদিকে জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২ দিন আক্রান্তের হার ৭ থেকে ৯ শতাংশ থাকলেও বিগত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের হার ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৯২ জন।

খুলনায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমান অ্যাম্বুলেন্স

বিজ্ঞাপন

খুলনায় আরো ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮১
খুলনায় একদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এদিকে খুলনা মেডিকেলে পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষায় একদিনে ৮১ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। পিসিআর ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মেডিকেল কলেজ পিসিআর মেশিনে ২৭৯ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ১৯৩ জন খুলনা মহানগরী ও জেলার।এর মধ্যে ৮১ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। যার মধ্যে খুলনা মহানগরী ও জেলার ৩৯ জন, বাগেরহাট ২৬ জন, যশোর ২ জন, পিরোজপুর ২ জন, গোপালগঞ্জ ১ জন ও ঝিনাইদহ জেলার ১ জন রয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে জেলা প্রশাসন কর্তৃক মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার বাড়ছে
দিনাজপুরে আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার বাড়ছে। এপর্যন্ত করোনায় জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। গত এক সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে, আরও ৩ জনের। ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে ৬১০১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৫৮৩ জন। বর্তমানে ৩৮১ জন করোনা রোগী রয়েছেন জেলায়। ২৪ ঘন্টায় ১১৩ জন কোয়ারেন্টাইনে এবং ৩৪৬ আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬১ জন। এরমধ্যে কোভিড-১৯ পজেটিভ ৩৫ জন এবং ২৬ জন উপসর্গ সন্দেহভাজন রয়েছে। আক্রান্তের হার ২১ দশমিক ১ শতাংশ।দিনাজপুর সিভিল সার্জন আব্দুল কুদ্দুস জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে দিনাজপুর সদর উপজেলায় সংক্রমণ অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারও লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে।

নোয়াখালীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি, জেলায় লকডাউন চলমান

সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহের বিশেষ লকডাউনের
সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহের বিশেষ লকডাউনের ৫ম দিনে আরও ১০৮ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ সময় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছে ৪ জন। বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতাল এবং হোম আইসোলেশনে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০১ জন। ঈদের পর গত ২৩ মে থেকে সাতক্ষীরা জেলায় করোনার উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ শুরু হয়। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসন গত ৫ জুন থেকে জেলাব্যাপী এক সপ্তাহের বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউন বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্নস্থানে পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারত থেকে অবৈধপথে দেশে ফেরা আরো ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে সীমান্ত এলাকায় স্থাপিত দুটি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

নোয়াখালীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি, জেলায় লকডাউন চলমান
নোয়াখালীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে ৫ জুন থেকে চলছে ৭ দিনের লকডাউন। ৫ জুন ভোর ৬ টা থেকে ১১ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত চলবে এ লকডাউন চলবে। নোয়াখালী পৌরসভাসহ ৬ টি ইউনিয়নে চলা লকডাউনের আজ ৫ম দিন চলছে। সড়কে গণপরিবহন ছাড়া সিএনজি অটোরিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহন চলছে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও অনেকটা ঢিলেঢালা ভাবে চলছে লকডাউন। লকডাউন ঘোষিত এলাকাগুলো হলো নোয়াখালী পৌরসভা ও সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন।