চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যম বদলে দিচ্ছে মার্কিন নির্বাচনী ধারা: পলিটিকো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীরা, বিশেষ করে রিপাবলিকান অনানুষ্ঠানিক প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার প্রথাগত রীতি বদলে ফেলছেন। তারা এখন বেশিরভাগ সময়ই এ কাজে ব্যবহার করেন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমকে।

এমনটাই মনে করছেন রাজনীতি বিষয়ক আমেরিকান ম্যাগাজিন পলিটিকোর তিন সিনিয়র সাংবাদিক। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েই চলেছে বলে মনে করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

পলিটিকোর সম্পাদক সুজান গ্ল্যাসার, নির্বাহী সম্পাদক পিটার ক্যানেলোস এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক মাইকেল ক্রাউলি নির্বাচন কাভার করতে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রুশ সাংবাদিকদের একটি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্তে আসেন তারা।

পলিটিকো সাংবাদিকরা বলেন, বর্তমানে প্রার্থীদের মধ্যে তথ্য ও বক্তব্য প্রকাশে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতার কারণে রিপোর্টাররা সরাসরি প্রার্থীদের প্রশ্ন করা বা তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দেয়া বক্তব্য যাচাই করা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। এছাড়াও তারা মনে করেন, সামাজিক মাধ্যম ও নিউ মিডিয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। একারণেই রিপাবলিকান ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট বার্নি স্যান্ডার্স অস্থিরতাপূর্ণ প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারছেন।

বিজ্ঞাপন

এমনকি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিকরাও নির্বাচনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে গতানুগতিক সংবাদমাধ্যমকে অনেক সময়ই এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ক্যানেলোস ও ক্রাউলি।

আগেকার প্রেসিডেন্টরা জাতির উদ্দেশ্যে কথা বলার জন্য প্রতি সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন ডাকতেন। সেখানে ওবামা মাসে মাত্র একবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। এর বদলে ইন-ডেপথ, একান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য ওবামার যোগাযোগ টিম হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিককে সুযোগ দেন। আর সুযোগ দেন কৌতুক তারকা বা ইউটিউব তারকাদের, যারা বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

গ্ল্যাসারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আমেরিকান গণমাধ্যমের চিরাচরিত ‘গেটকিপার’-এর ভূমিকা নাটকীয়ভাবে উল্টে গেছে। এ কারণেই এবারের নির্বাচন নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর করা ভবিষ্যদ্বাণী আগেকার নির্বাচনগুলোর মতো ততটা মিলছে না।

এছাড়াও আলোচনায় এই তিন সিনিয়র সংবাদকর্মী মনে করেন, এ বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ রাজনৈতিকভাবে দু’দলের কাছে প্রায় আধাআধি ভাগ হয়ে গেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেষ পর্যন্ত যারাই মনোনীত হন না কেন, ভোট মোটামুটি ৫০/৫০ করেই পড়বে দু’জনের কপালে।

এ কারণে হাতে গোনা অল্প সংখ্যক ভোটারের ভোটই নির্ধারণ করবে কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট।