চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যমে থেমে নেই গুজব ও ভুল তথ্য

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে গুজব, মিথ্যা সংবাদ ও ভুল তথ্য একটি বড় সমস্যার নাম। বিশ্বজুড়ে এই সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাষ্ট্র নানামুখি পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে।

বাংলাদেশও এই সমস্যার বাইরে না। সর্বশেষ তার একটি উদাহরণ ভোলার বোরহানউদ্দিনে ঘটে যাওয়া সহিংসতা। ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকিং, পোস্টকে ঘিরে প্রাণহানির ঘটনা সারাজাতিকে নাড়া দিয়েছে। ধর্মীয় উন্মাদনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক না কূটকৌশলের ব্যবহার দেখা যায় গুজব, মিথ্যা সংবাদ ও ভুল তথ্য প্রচারে। শুধু তাই নয় হুজুগে পড়ে নানা হালকা বিষয়েও গুজব বা ভুল তথ্যের প্রচার দেখা যায়। চলচ্চিত্র সমিতির নির্বাচনে চিত্র নায়িকা মৌসুমীর জয়লাভের গুজব তার সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ।

পদ্মাসেতুর জন্য মাথা কাটা গুজবের আতঙ্কের পরে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নেয়াতে বেশ কিছুদিন কোনো ধরণের গুজব ডালপালা বিস্তার করতে না পারলেও আবার গুজব ও ভুল তথ্যের প্রচার দেখা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। এসব নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা দায়িত্বশীল সংস্থা শতকোটি টাকার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ। এছাড়া জনসচেতনতায় গুজব বিষয়ে নানা প্রচার-প্রকাশনাও চলছে জোরেশোরে, বিষয়গুলো ইতিবাচক।

বিজ্ঞাপন

আজও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে গুজব বা ভুল তথ্যের বিষয়ে সতর্ক হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে ভোলায় যে ঘটনাটি ঘটালো, আমরা মনে করি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রধান কাজ হবে- মিথ্যা, গুজব বা ভুল তথ্যে যাতে জনগণ বিভ্রান্ত না হয়। আমরা রামুতে দেখেছি, নাছিরনগরে দেখেছি, সম্প্রতি ভোলায় দেখলাম এবং অন্যান্য জায়গাতেও এর খারাপ দিক দেখেছি। এর জন্য আপনাদের কাছে আহবান, যাতে গুজব ছড়াতে না পারে সেই লক্ষ্যে আপনারা কাজটি করবেন। যেকোনো তথ্য জানলে তা যাচাই করে দেখুন।’

শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই না, এই বিষয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। একটি বিষয় লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই যে, গুজব বা ভুল তথ্যের ফলে কোনো বড় ধরণের ঘটনা ঘটলে তার শিকার বা ভূক্তভোগী হয় সাধারণ জনগণ। ভোলাতে গুজবের উত্তেজনার শিকার হয়েছে ৪ জন সাধারণ মানুষ। গুজব ছড়িয়ে কারা তাদের কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, তা বোঝার আগেই ঘটনার শিকার হতে হয় গুজবের ফাঁদে পা দেয়া মানুষকে।

যদি আমরা নিজেদের আধুনিক ও সভ্য মানুষ বলে দাবি করে থাকি তাহলে চোখকান খোলা রেখে এসব গুজব ও মিথ্যা/ভুল তথ্যকে মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের আশাবাদ, দায়িত্বশীল বিভিন্ন কর্তৃপক্ষসহ এই বিষয়ে সবাই সাবধান হলে অবস্থার পরিবর্তন হবেই।

বিজ্ঞাপন