চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সামাজিক বনায়নকে কেন্দ্র করে মধুপুর বনাঞ্চলে উত্তেজনা

মধুপুর বনাঞ্চলের সিংহভাগ ভূমি জবরদখল করে চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগ অনেক পুরনো। 

মধুপর বনাঞ্চলের সিংহভাগ ভূমি জবর দখল করে ব্যবহার করা হচ্ছে চাষাবাদে। তেমনি গতকাল সোমাবার দোখলা রেঞ্জের পেগামারি এলাকার এক ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর দখলকৃত ৪০ শতাংশ ভূমিতে থাকা কলাগাছ কেটে সামাজিক বনায়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সংঘাতময় পরিস্থিতির। নৃ-গোষ্ঠীদের দাবি বংশপরম্পরা ভূমির অধিকারে তাদের এই আন্দোলন। আর বন বিভাগের দাবি জবর দখলকারী প্রভাবশালী মহল আড়ালে থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ব্যবহার করে বনের ভূমি উদ্ধারে বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করছে।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনের মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা রেঞ্জ। এই সড়কটি ধরে হেঁটে গেলে দু’পাশের ঘনবন দেখে বুঝে উঠার উপায় নেই কয়েকগজ ভিতরেই কী ভয়ংকর ধ্বংসলীলা চলছে প্রাকৃতিক বনভূমি নিয়ে!

বিজ্ঞাপন

এই রেঞ্জের অধীনে রয়েছে ১৯ হাজার একর বনভূমি। যার মধ্যে বনবিভাগের কাগজে কলমে দখলে আছে ১২ হাজার একর ভূমি। ৭ হাজার একর ভূমি দখলে থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার লেশমাত্র নেই। একরের পর একর জবর দখল করে চাষাবাদ করা হচ্ছে কলা, আনারস, পেঁপে, হলুদ, আদাসহ নানা কৃষিকাজে।

সম্প্রতি কৃষিকাজে ব্যবহার হওয়া দোখলা রেঞ্জের ১৭৫ একর বনভূমি উদ্ধার করছে কর্তৃপক্ষ। এই ভূমি উদ্ধার করে সামাজিক বনায়ন সৃজন করলেও তেমন একটা বাধার মুখে পড়তে হয়নি তাদের। তবে গারো সম্প্রদায়ের বাসন্তী রেমার ৪০ শতক ভূমির প্রায় ৫শত কলাগাছ কেটে সামাজিক বনায়নের জন্য বিদেশী জাতের আকাশি গাছের রোপণ করতে গেলে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হয় বন কর্তৃপক্ষ। পরে গারো সম্প্রদায়ের বাধার মুখে পিছু হটে তারা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাসন্তী রেমার দাবি, বংশপরম্পরায় তাদের দখলে রয়েছে এ ভূমি। দীর্ঘদিন ধরেই তারা ভোগদখল করে আসছেন। গতকাল সোমবার বিনা নোটিশে বনবিভাগ পাঁচ শতাধিক কলাগাছ কেটে সাবার করেছে। ক্ষতিপূরণ ও বিচার চান তিনি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুঁসে উঠেছে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদের অধিকার আদায়ের সংগঠন ও স্থানীয়রা। তাদের বিরুদ্ধে দোখলা রেঞ্জ অফিস ঘেরাও, ভাংচুর ও বনকর্মীদের মারপিটের অভিযোগ করেছে দোখলা রেঞ্জের রেঞ্জার। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মানববন্ধনসহ নানা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন বলে দাবি তাদের। তাদের অভিযোগ প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ভূমি উদ্ধার না করে নিরহ নৃ গোষ্ঠীর ভূমি উচ্ছেদ প্রহসনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বন কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মধুপুরের দোখলা রে‌ঞ্জের বন কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ ব‌লেন, জবর দখলে থাকা প্রভাবশালী মহল উচ্ছেদ অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে ক্ষৃদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঢাল হি‌সে‌বে ব্যবহার করছে। জবর দখ‌লে থাকা দোখলা রে‌ঞ্জের পেগামা‌রি এলাকার জ‌মি উদ্ধার করা হয়। উ‌চ্ছেদ হওয়া জ‌মি প্রভাবশালী মহল ইজারা নিয়েছিলো। তারা আ‌দিবাসী‌দের সাম‌নে রে‌খে আমাদের উদ্ধার কার্যক্রম‌কে বাধাগ্রস্থ ক‌রে। আবা‌সিক এলাকায় ভাঙচুর, বনকর্মীদের মারপিট করছে। সামাজিক বনায়নের প্রায় এক হাজার চারা নষ্ট ক‌রে ফে‌লেছে। এছাড়া আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে।

বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় সংসদ সভাপতি জন যেত্রা বলেন, সামা‌জিক বনায়‌নের না‌মে বন‌বিভাগ নিজেই প্রাকৃতিক বন লুটপাট করে যাচ্ছে। এতে প্রাকৃ‌তিক বন দিন দিন উজাড় হ‌য়ে‌ যা‌চ্ছে। আমরা আ‌দিবাসীরা তার জন্য শংকিত। আ‌দিবাসী‌দের বনভূ‌মি‌তে সামা‌জিক বনায়ন করা যা‌বে না। রক্ত দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধ করা হবে। বন ধ্বংসের জন্য বনবিভাগকেই দায়ি করেছেন তারা।

মধুপর বনাঞ্চলের ৬২ হাজার একর বনভূমির মধ্যে ৪৫ হাজার একর বনভূমি টাঙ্গাইল বনবিভাগের। এর মধ্যে জবর দখল হয়ে গেছে ২৩ হাজার একরের বেশি বনভূমি। যা স্থানীয় রাজারস, প্রশান্ত, ফিলিপ কুবি, আনিস, লস্কর মেম্বার, ইউলিয়াম দাজেল, সালাম, ইয়াকুবসহ কয়েক শতাধিক প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে দাবি বনবিভাগের।