চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে বিক্ষোভ

মিয়ানমারের প্রধানতম শহর ইয়াঙ্গুনে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। বিক্ষুদ্ধ জনতা মনে করে সামরিক জান্তাকে সরিয়ে শিগগিরই মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক শাষন ফিরে আসবে। তারা অবরুদ্ধ নেত্রী অং সান সুচিরও মুক্তি দাবি করে।
সামরিক জান্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিলেও রাজপথে জড়ো হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিনর জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ প্রদান পর্যন্ত দুটি সাইট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম বন্ধ কেন?
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা পর্বেক্ষণ করে দেখেছে, ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের কথা মানুষ ফেসবুক থেকেই প্রথম জেনেছে। যেকোন তথ্য বা সংবাদ সংগ্রহের প্রাথমিক উৎস হয়ে উঠেছে ফেসবুক। এর তিন দিন পর দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষার অজুহাতে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেসবুক বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক বন্ধ করার পর মানুষ তথ্য জানতে ঝুঁকে পড়ে টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের দিকে। সাধারণ মানুষ সামরিক অভ্যুত্থানের বিপক্ষে মত প্রকাশ করতে থাকে। এর পর শুক্রবার রাত দশটা থেকে টুইটার, ইন্সটাগ্রামও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামরিক শাসকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সে কারণে এগুলো বন্ধ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের এসব পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরওয়ের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনর। এ ধরণের প্রতিবন্ধকতায় সাধারণ মানুষের বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে মনে করে টেলিনর।
টুইটারের মুখপত্র বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে গণমানুষের যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। তাছাড়া জনতার মত প্রকাশও কঠিন হয়ে পড়ছে।

জনতা গণতন্ত্রের দাবিতে মাঠে নামলেও মিয়ারমারের সামরিক জান্তা দাবি করছে, সেখানে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। কিন্তু সাধারণের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। থালা-বাটি বাজিয়ে, গাড়ির হর্ন বাজিয়ে, বিপ্লবী গান গেয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এমনকি রাতভর চলছে বিক্ষোভ কর্মসূচী।