চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাবেক সেনাকর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা পার পাবে না: ওবায়দুল কাদের

সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্রীড়া সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার সরকারি বাসভবন থেকে ব্রিফিংকালে সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ওবায়দুল কাদের বলেন: আমি আজ গভীরভাবে মর্মাহত। তাকে (সিনহা) আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন তিনি এসএসএফ এ কাজ করতেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্ব অবসরপ্রাপ্ত সিনহা রাশেদ খান, তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি এবং আমরা (আওয়ামী লীগ) গভীরভাবে শোকাহত।

মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে দোষীদের ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারী দেন ক্ষমতাসীনদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক এ নেতা।

তিনি বলেন: এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত…, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার (সিনহা) মাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে (ফোনালাপ) যেটা বলেছেন; আমি সেটাই উচ্চারণ করব, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যকে উদঘাটন করা হবে। যারাই এর সঙ্গে জড়িত, পার পেয়ে যেতে পারবে না।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ নিহতের মা নাসিমা আক্তারকে ফোন করে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

ঘটনার পর দুটি মামলা করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সিনহা রাশেদ খান ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার পর ‘লেটস গো’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। এই সময়টায় আরও তিন সঙ্গীকে নিয়ে ‘নীলিমা’ নামের একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন তিনি।

ঘটনার দিন ডকুমেন্টারির শুটিংয়ের কাজ শেষে করে ওই রিসোর্টে ফিরছিলেন রাশেদ এবং তার এক সঙ্গী।

শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মদিনে বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা

এর আগে শেখ কামালের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন: শেখ কামাল উপমহাদেশের অন্যতম সফল ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন,তিনি আধুনিক ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রবর্তক ছিলেন।

ব্রিফিংকালে শেখ কামালের স্মরণে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন: শহীদ শেখ কামাল ছিলেন দূরদর্শী ও গভীর চিন্তাবোধের অধিকারী এবং নির্লোভ, নির্মহ, যিনি ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে থেকেও ছিলো অতি সাধারণ।

তিনি আরও বলেন: রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো আদর্শবাদী রাজনীতি মজবুত করার নিখাদ বুনিয়াদ তাই শেখ কামাল রাজনীতির সংস্কৃতিকে টেকসই করার জন্য সংস্কৃতির রাজনীতির উপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উৎকর্ষ সাধনে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির নিগূঢ় শক্তিতে বলীয়ান হতে পারলে সবকিছুই কল্যানমূখী হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন এ বোধ শেখ কামালের মধ্যে প্রবলভাবে জেগে উঠেছিল।

শেখ কামাল উপমহাদেশের অন্যতম সফল ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন,তিনি আধুনিক ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রবর্তক ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রথমে আবাহনী ক্লাব ও পরে বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ শেখ কামালের বিদেহী আত্নার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়ায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. হাছান মাহমুদসহ অনেকে।