চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাবেক সেনাকর্মকর্তার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনাকর্মকর্তা সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে আরেকজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে সেই কমিটি পুনর্গঠন করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

ঘটনার পরের দিন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কমিটির নতুন সদস্য হলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাকেই পুনর্গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্যের একজন হলেন; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন প্রতিনিধি। যিনি ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার কর্তৃক মনোনীত। আরেকজন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক নিযুক্ত প্রতিনিধি।

এর আগের কমিটিতে আহ্বায়ক মোহা. শাজাহান আলির সঙ্গে সদস্য করা হয়েছিল কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মনোনীত একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধিকে।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

ঘটনার পর পুলিশের দাবি করে, ‘ওই সাবেক সেনাকর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত গাড়িতে এক সঙ্গীসহ টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। চেকপোস্টে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাকর্মকর্তা তার সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।

তবে পুলিশের এই দাবি মানতে পারেনি নিহতের পরিবার। তারা মনে করছেন, রাশেদকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ আরও দাবি করে, সাবেক ওই সেনাকর্মকর্তার গাড়ি তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, কিছু গাঁজা ও দুটি বিদেশি মদের বোতল পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর দুটি মামলা করে পুলিশ।

জানা গেছে, সিনহা রাশেদ খান ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার পর ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। এই সময়টায় আরও তিন সঙ্গীকে নিয়ে ‘নীলিমা’ নামের একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন তিনি।

ঘটনার দিন ডকুমেন্টারির শুটিংয়ের কাজ শেষে করে ওই রিসোর্টে ফিরছিলেন রাশেদ এবং তার এক সঙ্গী।