চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাবারিমালায় প্রার্থনার অনুমতি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের ৪ পূণ্যার্থী

ভারতের কেরালার রাজ্যের সাবারিমালা মন্দিরে তৃতীয় লিঙ্গের চার পূণ্যার্থীকে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তারা পাহাড়ে চড়ে মন্দিরে প্রবেশ করে দেবী আয়াপ্পার নামে প্রার্থনা করেছেন।

এর আগে রোববার মন্দিরে পুজো দিতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন অনন্যা, ত্রুপ্তি, রেঞ্জুমোল এবং অবন্তিকা। কিন্তু তখন পুলিশই তাদের ফিরিয়ে দেয় এই যুক্তি দিয়ে যে, তাদের ব্যাপারে পুলিশের আরও আইনি স্পষ্টতা দরকার।

বিজ্ঞাপন

তখন এই চারজন কেরালা হাইকোর্ট নিযুক্ত সুপারভাইজরি প্যানেলের সদস্য ডিজিপি এ হেমাচন্দ্রন এবং কেরালা পুলিশের আইজি মনোজ আব্রাহামের সঙ্গে দেখা করে বুঝিয়ে বললে তাদের শেষ পর্যন্ত মন্দিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

এনডিটিভি জানায়, মঙ্গলবার তৃতীয় লিঙ্গে এই চার পূণ্যার্থী সাবারিমালার চিরায়ত প্রথা অনুসারে কালো শাড়ি পরে ‘ইরুমুদিকেতু’ (দেবী আয়াপ্পার উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য) নিয়ে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাদেরকে যাত্রাপথের শুরুর এলাকা নীলাক্কাল থেকে পথের শেষ পাম্বা পর্যন্ত ২০ জন পুলিশের প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মন্দিরে প্রার্থনা শেষে পূণ্যার্থীরা জানান, সাবারিমালায় প্রার্থনা করার সুযোগ পেয়ে তারা অসম্ভব খুশি। এটি তাদের জীবনের লক্ষ্য ছিল বলেও তারা মন্তব্য করেন।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেরালার বিখ্যাত সাবারিমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীর (১০ থেকে ৫০ বছর বয়স) প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ওই মন্দিরের উপাস্য দেবী আয়াপ্পা একজন চিরকুমারী এবং পিরিয়ড হওয়ার বয়স হয়েছে এমন সব নারী ‘অপবিত্র’।

এ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের দেয়া রায়ে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত নারী উপাসকদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।

এর প্রায় এক মাস পর ১৬ অক্টোবর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নারী ভক্তদের জন্য বিকেল ৫টা থেকে খুলে দেয়া হয় মন্দিরের দরজা। কিন্তু মন্দিরের ভক্তরা সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে না নিয়ে সেদিন বিকেল ৩টার দিক থেকেই সাবারিমালার পথ আটকে মিছিল শুরু করে।

পুলিশ এবং আদালতের চেষ্টার পরও এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন ‘নিষিদ্ধ বয়সের নারী’ এ মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন।

হাইকোর্ট নভেম্বরে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এর ওপর সাবারিমালা ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেন। এছাড়া চলমান প্রার্থনা মৌসুমে আগত পূণ্যার্থীদের যে কোনো সমস্যা মোকাবেলার সব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও এই কমিটিকে দেয়া হয়েছে।