চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাদ্দামে মুগ্ধ এক ঢাবি ছাত্রী!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনে মুগ্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। এই বিমোহিত মনোভাব সেই ছাত্রী লিখে প্রকাশ করেছেন ‘ডিউ ক্রাশ এন্ড কনফেশন’ নামক পেজে।

মুক্তা নামে ওই ছাত্রীর রোমান্টিক কনফেশন লেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোছনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনা অবশ্য নেতিবাচক কিছু নয়। মূলত সাদ্দাম হোসেনের রাজনৈতিক মননশীলতা, আচরণ ও সুন্দর বাচনভঙ্গির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন ওই ছাত্রী।

বিজ্ঞাপন

মনি মুক্তা নামের ওই ছাত্রী লিখেছেন, ‘আমি জানি, আমি সাহসী। তাই নিজের নাম লিখতে ভয় পাইনি! আপনাকে প্রথম দেখেছিলাম বাইকে। আমি নীলক্ষেত যাচ্ছিলাম। আপনি পিছনে একটা ছেলের বাইকে আসছিলেন। তখন তো জানতাম না আপনি একদিন ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হবেন। তবে এটা বুঝেছিলাম, আপনি পলিটিক্স করেন। কারণ পিছনে আরো কয়েকটা বাইক ছিলো। পরে আপনাকে নিয়ে বিস্তারিত জানা হয় যখন আপনি সাধারণ সম্পাদক হন। পরে জানলাম আপনি এফ.আর হলে থাকেন। আমার এক ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই আপনার পলিটিক্স করেন। ভাইকে অনেক বার বলেছি আপনার সাথে একদিন দেখা করিয়ে দিতে। কিন্তু তিনি শুধু ব্যস্ত আর ব্যস্ত।”

ওই ছাত্রী আরও লিখেন, ‘রোকেয়া হলের প্রায় অর্ধেক মেয়েই জানে আপনি আমার ক্রাশ! এমনকি আমার বয়ফ্রেন্ড ও জানে। শুধু আপনিই জানলেন না! যখন সবাই আপনাকে নিয়ে পচা কথা বলে, আপনার বদনাম করে, তখন আমার খুব গা জ্বলে। এমনকি আপনার পড়াশুনা নিয়েও মানুষ কথা বলে, এতেও মেজাজটা গরম হয়।। আমার খুব ইচ্ছা, আপনার সাথে দেখা করবো আর আপনি আমার ফোন দিয়ে আমার সাথে একটা সেলফি তুলবেন। কিন্তু তা তো আর হচ্ছে না। আপনাকে আর পাই কই! আপনি তো পলিটিক্স নিয়ে ব্যস্ত! আর হ্যাঁ মানুষের কথা কানে নিতে হবে না। নেতা সবাই হতে পারেনা। নেতা হতে গেলে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয়।”

বিজ্ঞাপন

ছাত্রীটি লিখেন, ‘আপনার জন্য মন থেকে দোয়া করি। আমি কিন্তুু পলিটিক্স করি না যে আপনাকে হাওয়া দিবো বা তেল দিবো পদ পাওয়ার লোভে। কিন্তু আপনি যদি কোনোদিন আমাকে বলেন যে, “তুমি রাজনীতি করো, তোমার মেধাকে রাজনৈতিক কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবা করো, তবে আমি ঠিক রাজনীতি করবো।” চিন্তা করবেন না, আমি কিন্তুু রাজনীতি বিজ্ঞানেরই ছাত্রী, রাজনীতি নিয়ে পড়াশুনা করা মেয়ে। আমার পদের লোভ নেই। তবে পরিবর্তন আর ভালো কিছু করার ইচ্ছা তো অবশ্যই আছে। তবে এইসব রাজনীতি পরের কথা। আগে তো বলবো খুব সাধারণ করে যে, আপনাকে আমার ভালো লাগে। আমি কিন্তু লুইচ্চা না। আপনাকে ভালো লাগে শুধু। এই ভালো লাগাটা সুন্দর, স্বাভাবিক এবং শৈল্পিক! আপনি না হয় ক্যাম্পাসে জারুল হবেন, আর আমি হবো জারুলের বেগুনি রং!”

ছাত্রীর ওই কনফেশনের জবাবে কমেন্ট বক্সে সাদ্দাম লিখেছেন, ‘দেখা হলে কথা বলো এবং সুন্দর, স্বাভাবিক ও শৈল্পিক চা খেয়ে যেও! রাজনীতি করো বা না করো, জীবনে ভালো কিছু করো। জারুলের বেগুনি রঙ দেখলে এরপরে তোমার কথা মনে পড়লেও পড়তে পারে! সুন্দর লেখা আর ভাবনার জন্য ভালোবাসা।”

এই বিষয়ে জানতে সাদ্দাম হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে ও কনফেশন ও তার প্রতিউত্তর দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি যা বলেছি তা কমেন্ট বক্সেই লিখেছি। এটি সুন্দর চিন্তার ফল!

সাদ্দাম হোসেন তার মননশীল রাজনীতি, মনোমুগ্ধকর যৌক্তিক বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের সাথে অমায়িক আচরণের কারণে জনপ্রিয়। তিনি গত ডাকসু নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন পাঁচ ছাত্রী হলের।

Bellow Post-Green View