চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাদেক বাচ্চুকে এফডিসিতে না নেয়ার সিদ্ধান্ত, খিলগাঁও কবরস্থানে হবে দাফন

টানা কয়েক দশক ধরে ঢাকাই ছবিতে কাজ করেছেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। নিয়মিত আড্ডা ছিলো সিনেমার আঁতুর ঘর এফডিসিতে। এটাই ছিলো কর্মস্থল। অথচ শেষ বিদায়ে সেখানে নেয়া হচ্ছে না এই শক্তিমান অভিনেতার মরদেহ!

বিজ্ঞাপন

হ্যাঁ, করোনা সংক্রমণ নিয়ে মৃত্যু হওয়ায় শেষবার এফডিসিতে সাদেক বাচ্চুর মরদেহ নেয়ার অনুমতি পায়নি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবেই মূলত এমন সিদ্ধান্ত। চ্যানেল আই অনলাইনকে এমনটাই জানালেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

 

সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই হাসপাতালে আছেন জায়েদ খান। এদিন দুপুরে তিনি জানান, আমরা শেষবারের মতো এফডিসি থেকে কিংবদন্তী অভিনেতা সাদেক বাচ্চু ভাইকে বিদায় দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে চিকিৎসকের পরামর্শে শেষ পর্যন্ত আমরা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি।

 

তিনি জানান, বাচ্চু ভাইয়ের দাফন হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। যেহেতু তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, তাই তার দাফনের দায়িত্ব নিয়েছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম।
শিল্পী সমিতির এই নেতা জানান, সাদেক বাচ্চুর মরদেহ এখনো হাসপাতালেই রয়েছে। সেখান থেকে মরদেহ বের করবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। তারাই সামাজিক দূরত্ব ও করোনার বিধিনিষেধ মেনে উনার গোসল, জানাজা ও দাফন করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আছরবাদ খিলগাঁও কবরস্থানে সমাহিত হবেন তিনি।

 

সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাদেক বাচ্চু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

বেশকিছু দিন আগে সাদেক বাচ্চুর ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন সাদেক বাচ্চুকে। পরদিন তার করোনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে।

ঢামেকে সাদেক বাচ্চুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থায় অবনতি ঘটলে গেল শনিবার দুপুরে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

৫০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সাদেক বাচ্চু বেতার, নাটক, চলচ্চিত্র, সর্বত্র কাজ করেছেন। তবে নব্বই দশকে এহতেশামের ‘চাঁদনী’ ছবিতে অভিনয়ের পর জনপ্রিয়তা পান খলনায়ক হিসেবে। এই পরিচয়েই দেশজুড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সাদেক বাচ্চুর। এ ছবির পর তার নাম মাহবুব আলম থেকে হয়ে যাবে সাদেক বাচ্চু।

খলনায়ক ছাড়াও নানামুখী চরিত্রে দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন সাদেক বাচ্চু। তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘বিদ্রোহী’। সাদেক বাচ্চু তার অভিনয় ক্যারিয়ারে স্বীকৃতিস্বরূপ অসংখ্য সম্মাননার পাশাপাশি ২০১৮ সালে ‘একটি সিনেমার গল্প’–এর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।