চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাত বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা

আটক ১

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামে ৭ বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ওই গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোমিনুল ইসলামকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটি পারকৃষ্ণপুর গ্রামের কাঠুরে নাসির উদ্দিনের মেয়ে এবং একই উপজেলার ছয়ঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ ও আলামত উদ্ধার করেছে।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী বরাত দিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, অভাবের সংসারে ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রীর বাবা চলে যায় কাঠ কাটতে ও তার মা যায় অন্যের জমিতে তুলা ও মরিচ তুলতে। আর একটু সকাল হলেই প্রতিবন্ধী ভাইকে বাড়িতে রেখে সে যায় স্কুলে।

প্রতিদিনের মত গত শনিবার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ পাড়ার কাঠুরে নাসির ও তার মেয়ে এদিন দুপুরে বাড়িতে ভাত খেতে আসে। মেয়েটি বাড়িতে তার মা কে না পেয়ে খুঁজতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হলে তার নিজ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মাইকযোগে প্রচার চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যার আগে থেকেই ইউপি সদস্য খায়রুল বাসারের নেতৃত্বে ৮-৯টি দল গঠন করে গ্রামের বিভিন্ন স্থান ও মাঠে তাকে খুঁজতে নামে স্থানীয় যুবসমাজ। তাকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে তার পরিবারসহ এলাকাবাসী। পরে ওই রাতে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের অদূরে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে মেয়েটিকে খুঁজতে যায় স্থানীয় যুবসমাজ।

এরপর রাত ৯টার দিকে একই গ্রামের আয়ুব আলীর সিমখেতে শিশুটির লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের খবর দেয় তারা।

এ খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী-পুরুষ মেয়েটির লাশ দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আলামত উদ্ধার করে। তারই সূত্র ধরে পুলিশ স্থানীয় এক মুদিদোকানীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে বখাটে মোমিনুল ইসলামকে আটক করে।

রোববার বেলা ১২টর দিকে নিহত স্কুল ছাত্রীর লাশ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো এবং এ ব্যাপারে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৪) দায়ের করা হয়।