চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাজেকে দেড় শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের আরো ১১টি গ্রামে নতুন করে দেড় শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এরআগে ওই এলাকায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট শিশু প্রাণ হারায়।

সাজেক ইউনিয়নের নতুন আক্রান্ত গ্রামগুলো হচ্ছে ভুয়াছড়ি, কজইতলী, কজইছড়ি, শিলছড়ি, লাম্বাবাক, তালকুম্বা, বেতবুনিয়া, শীব পাড়া, বড়ইতলী, সাত নং পাড়া, ডেবাছড়া ও উজানছড়ি। এসব গ্রামে নতুন করে দেড় শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

সাত নং পাড়ার কার্বারী (গ্রাম প্রধান) দয়াল ত্রিপুরা বলেন, গত ২ দিন থেকে আমার এলাকায় মোট ১৬ জন হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং তারা সকলেই ১-৮ বছরের শিশু। তার মধ্যে একই পরিবারের চারজনও রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখার আহমেদ জানান, আগে থেকেই সেখানে আমাদের দুইটি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং আরো কয়েকটি গ্রামে নতুনভাবে হাম আক্রান্তের খবর পেয়ে আমরা ডাঃ বিষ্ণুপদ দেবনাথের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আরেকটি চিকিৎসক দল সেখানে পাঠিয়েছি। রোববার থেকেই আক্রান্ত শিশুদের পুরোদমে চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক দল কাজ শুরু করেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সাজেকে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮ শিশু মৃত্যুবরণ করে। হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সেখানে সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে মেডিক্যাল টিম কাজ শুরু করে এবং গত ২৫ মার্চ বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হামে আক্রান্ত ৫ শিশুকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তখন খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমদের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল হামে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে অরুণপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সেবা দেয়া হয়। আক্রান্ত শিশুদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে। সেখানে নমুনা পরীক্ষার পরে হাম শনাক্ত হয়। তবে করোনা ভাইরাস আতঙ্কের পাশাপাশি নতুনভাবে আবারো সাজেকে হামের প্রকোপে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।