চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ২১ দিন যাবৎ নিখোঁজ ১৯ জেলে

কক্সবাজার থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ২১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ১৯ জেলে। ট্রলার মালিক সমিতি ও ট্রলারের মালিক এক সপ্তাহ ধরে ৪ টি ট্রলার নিয়ে সাগরে তাদের খুঁজে চলেছে। 

গত ১৫ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এখনো ফিরেনি তারা। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে ভোলার কমলনগর উপজেলার ১২ এবং রামগতি উপজেলার সাতজন জেলে রয়েছেন। এ ঘটনায় ৩ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে ট্রলার মালিক।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ার ছড়া এলাকার নজির হোসেন কোম্পানির ‘এফভি রানা’ নামের ট্রলার নিয়ে মঞ্জুর মাঝি ১৮জন জেলেসহ গত ১৫ নভেম্বর মাছ শিকারে যান দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে। ওই দিন ট্রলার মালিকসহ স্বজনদের সঙ্গে জেলেদের মুঠোফোনে কথা হলেও পরদিন থেকে তারা নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যান। কিন্তু মাছ শিকার শেষে আট থেকে ১০ দিনের মধ্যে সাগর থেকে তারা ফেরত আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা ফেরেননি বলে জানান ট্রলার মালিক।

এমনকি ওই ১৯ জেলের কারোরই কোনো খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ জেলেদের কয়েকজন হচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার জেলে মঞ্জুর মাঝি, কমলনগর উপজেলার চরফলকন এলাকার জেলে মো. মোক্তার, একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, সাদ্দাম হোসেন, জসিম উদ্দিন, মো. জাফর, তাজুল ইসলাম ও শাহে আলম। অন্য জেলেদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

কমলনগর উপজেলার চরফলকন এলাকার নিখোঁজ জেলে তাজুল ইসলামের বাবা আবদুল খালেক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাজুল ইসলামই তার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি। এখন সেই ছেলেরই কোনো সন্ধান নেই। তার এ নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা শুধু আহাজারি করছেন।

একই এলাকার নিখোঁজ জেলে জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মুরাদ হোসেন বলেন, সাগরে যাওয়ার পর ১৫ নভেম্বর বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পর অনেকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সাগরে ৪ টি ট্রলার পাঠানো হয় তাদের খোঁজার জন্য। কিন্ত আজ পর্যন্ত কোন খবর পায়নি।

কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহম্মদ জানান, ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল বা দিক হারিয়ে বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে ওই জেলেরা ভারত, মিয়ানমার অথবা শ্রীলংকার সীমানায় ঢুকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথবা কোনো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলারটি ডুবেও যেতে পারে। সমুদ্র থেকে ফিরে আসা জেলেদের কাছ থেকে নিখোঁজ জেলেদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিষয়টি বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।