চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাকিবদের প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে কথা রাখলেন মিরাজরা

সকল মাকে সম্মান জানাতে জার্সিতে মায়ের নাম লিখে নেমেছিল রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটাররা। ম্যাচের আগে অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, জিতেই অভিনব এই উদ্যোগকে স্মরণীয় করে রাখতে চান। কথা রেখেছেন রাজশাহী অধিনায়ক। ঢাকা ডায়নামাইটসকে প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে মিরাজের দল ম্যাচ জিতে নিয়েছে ২০ রানে।

নিজেদের প্রথম চার ম্যাচের সবকটি জিতেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। বিপরীতে পাঁচ ম্যাচে মাত্র দুটিকে জয় ছিল রাজশাহীর। ম্যাচ জিতে ঢাকার জয়ের ধারায় ছেদ টানার সঙ্গে নিজেদের অবস্থানও শক্ত করল কিংসদের।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর দেয়া ১৩৭ রানের জবাবে ১১৬ রানে থামে ঢাকার ইনিংস।

জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যাট হাতে শুরুটা বেশ ভালোই হয় ঢাকার। উদানার করা প্রথম ওভার থেকে আসে ১১ রান। দ্বিতীয় ওভারেই ঘটে বিপত্তি। ব্যাট হাতে ব্যর্থ রাজশাহী অধিনায়ক মিরাজের ঘূর্ণি ফাঁদে পড়েন সুনিল নারিন। নিচু বল ব্যাট লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি বল হাতে ৩ উইকেট নেয়া নারিন।

এক ক্যারিবীয় ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন আরেক ক্যারিবিয়ান। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দিয়ে ওয়ানডাউনে নামানো হয় আন্দ্রে রাসেলকে। নেমে মিরাজের পাঁচ বলে নিয়ে নেন ১০ রান। জুটি জমার আগেই অবশ্য ফিরতে হয় হযরতউল্লাহ জাজাইকে। এদিন আর সুবিধে করতে পারেননি আফগানিস্তান তারকা। ৬ বলে ৬ রান করে উদানার ইয়র্কারে বোল্ড হন প্রথম দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি পাওয়া এ বিগ হিটার।

প্রমোশন পেলেও তার পুরোপুরি সুযোগ নিতে পারেননি রাসেল। জাজাইয়ের পরপরই আউট হন। আরাফাত সানিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে রায়ান টেন ডেসকাটের হাতে ধরা পড়েন রাসেল (১১)।

রনি তালুকদারকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান। জুটিতে ২৬ রান তোলার পর বিদায় নেন অধিনায়ক। শুরুতে বেশি উইকেট যাওয়ায় বেশ ধীরেসুস্থে ব্যাট করছিলেন সাকিব। একইসঙ্গে রানরেটেও নজর রাখতে হচ্ছিল তাকে। রানে চাকা সচল রাখতেই আরাফাত সানিকে ভাসিয়ে মারলেন। যথেষ্ট জোর না থাকায় সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা জোঙ্কারের হাতে ধরা পড়েন। ১৮ বল খেলে এক বাউন্ডারিতে ১৩ রান করেছেন ঢাকা অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

দ্রুতই অধিনায়কের পথ অনুসরণ করেন রনি তালুকদার। অনেকটা টেস্ট কায়দায় ব্যাট করে ২৬ বলে আনেন ১৪ রান। আরাফাত সানির নিচু হওয়া বল লাইনে না গিয়ে ব্যাট চালান। লাইনে না গিয়ে খেলার ফলাফল যা, তাই হয়েছে রনির ক্ষেত্রে। সরাসরি বোল্ড।

৫৩ রানের পাঁচ উইকেট হারিয়ে দল যখন প্রথম হারের সামনে, তখন মাঠে আসেন কাইরেন পোলার্ড। সঙ্গী হিসেবে পান নাঈম শেখকে। কিন্তু বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি শেখ। বিগশট খেলতে গিয়ে শাহারিয়ার নাফিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হন। ফেরার আগে তার অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে ১৭ রান।

ঢাকার শেষ ভরসা হিসেবে ছিলেন পোলার্ড। এদিন ব্যর্থ কঠিন সময়ে এমন অনেক ম্যাচ জেতানোর কান্ডারি। কামরুল হাসান রাব্বির ফুলটস বল ভাসিয়ে খেলেছিলেন পোলার্ড। কিন্তু জোর থাকলেও সীমান্ত পেরোনোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। বরং সীমানার দাগে দাঁড়িয়ে বল থামান ডেসকাট, দাগ ছোঁয়ার ভয়ে বল ছুঁড়ে দেন পরিবর্ত ফিল্ডার সৌম্য সরকারকে। দুজনের যৌথ ও সফল চেষ্টায় ফিরে যান ক্যারিববীয় ‘বিগ ম্যান’।

এই বিপিএলেই অবশ্য এমন ক্যাচ ধরে আলোচনায় ছিলেন পোলার্ড। সেটা যেন বুমেরাং হয়ে এল তার কাছে। ফেরার আগে করেন ১৯ বলে ১৩ রান। পোলার্ড ফিরতেই যেন ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ঢাকা। কোনো রান করার আগেই রানআউট হন রুবেল হোসেন। শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহান ১৪ বলে ২১ রান করে পরাজের ব্যবধানটাই শুধু কমিয়েছেন। ৯ উইকেট হারিয়ে ঢাকার ইনিংস থামে ১১৬ রানে।

রাজশাহীর হয়ে দুর্দান্ত বল করেছেন আরাফাত সানি। চার ওভারে মাত্র ৮ দিয়ে তিন উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। সানিকে সঙ্গ দিয়ে দুটি উইকেট নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান, উদানা ও রাব্বি নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে মার্শাল আইয়ুবের ৪৫, শাহারিয়ার নাফিসে ২৪ ও জাকির হাসানের ২০ রানের ছোট ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান করে রাজশাহী কিংস।

Bellow Post-Green View