চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাঈদ খোকনের কাছে খোলা চিঠি

শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার পিতা এদেশের একজন গর্বিত নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রিয়পাত্র ছিলেন। আপনার পিতার প্রতি রয়েছে এদশের মানুষের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে আপনার পিতাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন। আপনার পিতা মানব ঢাল হয়ে ২১ আগষ্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করার জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করেন। সেই পিতার সন্তান হয়ে আপনি প্রথমে ১/১১ রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনা ও আপনার পিতার আদর্শের সাথে বেঈমানী করে পিডিবি নামক পার্টি গঠন করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার যে মঞ্চ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি করা হয় তার প্রধান চরিত্রের মধ্যে আপনি ছিলেন একজন। তারপর বহু জল গড়িয়েছে। সব কিছু ভুলে গিয়ে প্রিয় নেত্রী শুধু মাত্র আপনার পিতার ভূমিকা বিবেচনায় আপনাকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনোনীত করে। মেয়র নির্বাচনে যে মানুষটি আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেন তিনি হলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।

আপনার পিতার ভূমিকা ছাড়া আপনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতি জিরো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আপনার কোন ভূমিকা নেই। তারপরও এবার আপনাকে মেয়র পদে দলীয় সিদ্ধান্তে মননোয়ন দেওয়া সম্ভব হয় নাই বিধায় আপনাকে উপমহাদেশের সবচেয় প্রাচীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত করা হয়।

আপনি যখন মেয়র নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন পান তখন আপনি ঋণ খেলাপী ছিলেন। মেয়র নির্বাচনের পর থেকে আপনি আলাদিনের দৈত্য মত ফুলে ফেঁপে উঠেন। বহু শতবর্ষী ঢাকা রূপান্তরিত হতে থাকে বসবাস অনুপযোগী শহর হিসাবে। মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নগরে শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল। জলাবদ্ধতা, যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যায় নগরবাসী ভোগ করে সীমাহীন দুর্ভোগ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আপনি আপাদমস্তক অহংকারী রূপে রূপান্তরিত হন।

আপনার সময়ে কাজ করা বহু ঠিকাদার নগর ভবনে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের পাওনা বিলের জন্য। যারা আপনাকে কমিশন দিতে পারেননি বলে বিল পাননি। নগর ভবন হয়ে উঠে দুর্নীতির প্রধান আখড়ায়। আপনার সময়কার প্রধান প্রকৌশলী হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলার আসামি। যিনি বর্তমানে কানাডায় পালাতক।

আপনার সময়ে করপোরেশন মালিকানাধীন মার্কেটগুলোতে শুরু হয় দুর্নীতির মহোৎসব। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন বহুশতবর্ষী নগরবাসীর জীবনে আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ব্যারিস্টার তাপস নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা নগরবাসী আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তিনি দায়িত্ব নিয়েই ডেঙ্গু মশাকে নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সফলতা উপহার দেন।

সিটি করপোরেশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করেন। রাজধানীর খালগুলোকে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জনগনের টাকা সদ্ব্যবহারের লক্ষে রাজধানীতে কাজ করা সব সেবা সংস্থার মাঝে সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহন করে। উন্মুক্ত তার মটির নিচে নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

বিজ্ঞাপন

দিনের পরিবর্তে রাতে বাসা-বাড়ির ময়লা নেয়ার সুফল নগরবাসী ভোগ করছে। দায়িত্ব নেয়ার ৭ মাসের মধ্যে তিনি নগর থেকে ব্যাটারী চালিত রিক্সা উচ্ছেদ করেন। নগরকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য নিরলস কাজ করছেন। বিগত যে কোন সময়ের তুলানায় মাত্র ৭ মাসে করপোরেশনের যে পরিমাণ রাজস্ব বৃদ্ধি করেছেন তা ইতিহাসে বিরল।

মানুষের মাঝে তিনি আশার আলো সঞ্চার করেছেন ইতিমধ্যে। দেশের জনগণের পাশাপাশি দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ, উদ্দীপনা। মাত্র ৭ মাসে নিজের পরিশ্রম ও কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি দিন দিন উজ্জ্বল করে চলছেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। ইতোমধ্যে তার হাত দিয়ে শুরু হয়েছে সিটি করপোরেশনের মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ।

যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি হলে আগামী বহুশতবছর রাজধানীবাসী উপকৃত হবে। যে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় বুড়িগঙ্গা তীরসহ ঢাকা হয়ে উঠবে একটি উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নগরী। এর মাঝে করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ৭৫ তলা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা টাওয়ার নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই মহা কর্মযজ্ঞের মাঝে শুধু মাত্র প্রকৃত দোকান মালিকদের আহবানে নকশা বহির্ভূত দোকান উচ্ছেদ করার ফলে আপনার আঁতে ঘা লাগলো কেন জনাব সাঈদ খোকন।

আপনি কিভাবে মেয়র তাপসকে দুর্নীতিবাজ বলেন? আপনি যখন ১/১১ এর সময় রাতের
আধারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এদেশের জনগণ ও রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস তখন হাজারো ষড়যন্ত্র ও রক্ত চক্ষে উপেক্ষা করে আইনী লড়াই লড়ে গেছেন প্রিয় নেত্রীকে মুক্ত করতে। আপনি যখন অশিক্ষা কুশিক্ষায় জড়িত তখন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস লন্ডন থেকে বার এট ল সম্পন্ন করেন।

জনাব সাঈদ খোকন আপনার কাছে জানতে চাই আপনার পেশা কী, আপনার আয়ের উৎস কী?। আপনি ভুলে গেছেন মেয়র পদে দায়িত্ব নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ছিলেন এদেশে আইনজীবীদের মধ্যে সর্বোচ্চ করদাতা। ইতোমধ্যে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। বিজ্ঞ আদালত পিআইবিকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্বভার দিয়েছে। তদন্তে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে হলেন। কিন্তু আমাদের বোধগম্য নয় আদালতের বিচারাধীন বিষেয় আপনি কেন উতলা হচ্ছেন।

আপনি সৎ হলে আপনারতো উতলা হওয়ার কোন কারণ দেখিনা। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও নগরবাসী যখন সঠিক লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময়ে আপনার এমন উতলা ভাব আমরা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করি। অতীতে আমরা দেখেছি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা আপনার উপর ভর করেছে। আপনি তাদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছেন। এবারও মনে হয় কোন গভীর ষড়যন্ত্রকারী আপনার উপর ভর করেছে।

আমরা আশা করবো আপনি যদি সৎ হয়ে থাকেন, দুর্নীতি না করে থাকেন তাহলে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। আইনী লড়াই লড়বেন। কোন ষড়যন্ত্রকরীর ফাঁদে পা দিবেন না। রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশনানুযায়ী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস তার সততা ও কর্মনিষ্ঠা দিয়ে এদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। নগরের এই মহা উন্নয়নযজ্ঞ আপনি কোন ভাবেই ব্যাহত করতে পারবেন না। আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এই কামনা করছি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)