চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তি রণেশ মৈত্রের ৮৮তম জন্মদিন

সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তি রণেশ মৈত্রের ৮৮ তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৩ সালের ৪ অক্টোবর রাজশাহী জেলার নহাটা গ্রামে প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খ্যাতনামা সাংবাদিক রণেশ মৈত্র জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা রমেশ চন্দ্র মৈত্র ছিলেন প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক-মা ননী বালা মৈত্র গৃহিনী, উভয়েই প্রয়াত।
রণেশ মৈত্র পাবনার সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখেন-ভূমিকা রাখেন জাতীয় রাজনীতিতেও যদিও ক্ষমতার রাজনীতিতে কদাপি তিনি প্রলুব্ধ হন নি।

বিজ্ঞাপন

১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু। অত:পর ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ বিরোধী হক-ভাসানী-সোহ্রাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্টের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান, ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠনে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠা কাজে অংশ গ্রহণ, ১৯৯৩ সালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বর্তমানে পংকজ ভট্টাচার্য্যরে নেতৃত্বাধীন ঐক্য ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পাবনা জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত।
রাজনৈতিক কারণে তিনি ১০ দফায় ১৩/১৪ বছর বিনাবিচারে কারারুদ্ধ হন।

বিজ্ঞাপন

১৯৫০ সালে তিনি পাবনায় শিখা সংঘ নামে একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। অত:পর আশির দশকে গড়ে তোলেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, জাহেদুর রহিম স্মৃতি পরিষদ ও পরে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

১৯৫৯ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নাটোরের কণ্যা পূরবী মৈত্রের সাথে। তাঁরা পাঁচ সন্তানের জনক-জননী। রণেশ মৈত্র ১৯৫৩ সাল থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ২০০১ সাল থেকে রিপোর্টিং বাদ দিয়ে ২০ বছর যাবত খ্যাতনামা জাতীয় ও পাবনার সকল দৈনিক পত্রিকায় নিরলসভাবে কলাম লিখে চলেছেন। তিনি তিনটি জনসমাদৃত প্রবন্ধ সংকলনও প্রকাশ করেছেন। আরও দুটি বই আসন্ন অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশে চেষ্টায় আছেন।

বঙ্গবন্ধুর সাথে দীর্ঘদিন সহ-কারাবন্দী হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ডায়েরী গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচাতে’ ছয় বার রণেশ মৈত্রের নাম ছয়টি পৃথক পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছেন।

রণেশ মৈত্র সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, বুলগেরিয়া, কিরঘিজিয়া, অষ্ট্রেলিয়া ও ভারত সফর করেছেন।

২০১৮ সালে রণেশ মৈত্র সাংবাদিকতায় একুশে পদকে সম্মানিত হন।রণেশ মৈত্র ও তাঁর সহধর্মিনী উভয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুর্লভ গৌরবের অধিকারী।