চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সহায়তা প্রশ্নে সেই পুরনো বিতর্ক

রানা প্লাজায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের উপর দিয়ে এক ধরণের ঝড় বয়ে গেছে। ঠিক তেমনই আঘাত এসেছে যারা আহত হয়েছিলেন তাদের উপরও। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, পরিপূর্ণ সহায়তা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যেই আছেন অনেকে। তবে মালিকপক্ষের দাবি, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, ভবন ধসের আগের দিনই শ্রমিকরা বলেছিলো, আমরা কিভাবে কাজে আসবো? আমাদের জীবনের কি কোনো মূল্য নাই? উত্তরে পোশাক কারখানা থেকে বলা হয়, বাঁচা মরার মালিক আল্লাহ, তোমরা কাজ করো।

তিনি বলেন, বিল্ডিংটা ভালো করে বুঝেশুনে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আবার ফাটল দেখেও কাজ বন্ধ করা হয়নি। এই অবস্থায় আহত-নিহতদের প্রত্যেককে উপযুব্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। কিন্তু তারা সেসব দেয়নি।

মোশরেফা মিশু জানান, ৩৫ জন শ্রমিক চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। তাদের জীবনের দায়িত্ব কে নেবে? ট্রেড ইউনিয়নও করতে দেয় না পোশাক কারখানার মালিকরা। তারা থাকলে শ্রমিকদের হয়ে মুখ খুলতে পানতো। তা না হলে শ্রমিকদের হয়ে কে কথা বলবে?

কেবলমাত্র দুর্নীতি দূর করতে পারলেই রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকসহ অন্য শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সরকার অবশ্য বলছে, সহায়তার সব চেষ্টাই করা হয়েছে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানিয়েছেন, বায়ার, আইএল ও এবং সরকারি তহবিল মিলে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাওয়া ১৮৯ কোটি টাকা থেকে ১১৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যারা নূন্যতম ক্ষতিপূরণ পাননি, তাদের বিষয়টিও বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ৮০৬ জন নিহতের পরিবারকে ১২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ৩৮ জন গুরুতর আহতকে দেওয়া হয়েছে চার কোটি ১০ লাখ টাকা। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ১৭২ জন নিহতের স্বজনরা দু’ কোটি ৯০ লাখ টাকা পেয়েছেন।

এছাড়া দু’ হাজার ৭৮৫ জন শ্রমিককে বিজিএমইএ বেতনসহ সব বকেয়া পরিশোধ করেছে। এজন্য বিজিএমইএ’র খরচ হয়েছে ১৫ কোটি টাকা।

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম জানান, রানা প্লাজার ঘটনার পর তারা সবগুলো গার্মেন্টস কারখানা নতুন করে গুছিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই চেষ্টা অব্যাহত  আছে।

এফএফসি (ফেয়ার ফ্যাক্টরি ক্লিয়ারিং) হাউজের মাধ্যমে দেশের বাইরের সবাই যেন সব কোম্পানির স্ট্যাটাস অনলাইনে জানতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘বিশ্বের কোথাও এটা নেই। রানা প্লাজার শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তর করতে চাই।’