চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সহজে তৈরি ভুয়া খবরের স্ক্রিনশটে ভাসে ফেসবুক

ফটোশপ সফটওয়্যারের কারিগরি কিংবা অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ-প্রতিবেদনটির উৎস কোড সম্পাদনা করে ভুয়া খবরের স্ক্রিনশট সহজেই বানানো যায়। বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য পূরণে এসব ডিজিটাল মিথ্যা কেবলমাত্র ফেসবুকে সংবাদ শিরোনাম পড়া জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করতে যথেষ্ট।

১৪ অক্টোবর দৈনিক প্রথম আলো, দ্য ডেইল স্টার, দৈনিক সমকালসহ কয়েকটি পত্রিকার নামে ফেসবুকে ছড়ানো ভুয়া স্ক্রিনশটগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডিজিটাল মিথ্যাচারের এসব দিক তুলে ধরেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তামজিদ রহমান।

চ্যানেল আই অনলাইনকে সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষক এবং তথ্য-প্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ই-জেনারেশনের এই সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট বলেন,‘ছবি সম্পাদনার সফটওয়্যার ফটোশপের কাজ জানা থাকলে যে কেউ ভুয়া স্ক্রিনশট বানাতে পারে। তবে সংবাদ প্রতিবেদনের সোর্স কোড ঘষামাজা করে এরচেয়েও সহজ উপায়ে ভুয়া সংবাদ তৈরি করা যায়। এতে সূক্ষ্মভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় ভালোভাবে। ইন্টারনেট ব্রাউজারে ফায়ার বাগের মতো অ্যাড অন থাকলেই বানিয়ে নেয়া যায় ভুয়া সংবাদের স্ক্রিনশট। এই ফায়ার বাগ অ্যাড অন দিয়ে যেকোনো নিউজপোর্টালের,ওয়েবসাইটের যেকোনো অংশে মাউস ক্লিক করে মার্ক করে ওই জায়গাটি ইচ্ছামতো বদলে দেয়া যায়। পত্রিকাগুলোর বেলায় এরকম কিছু হয়েছে কিনা সেটা ফটোফরেনসিক তদন্ত হলে জানা যেতে পারে।’

এসব ভুয়া খবরের স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ার জন্য অসাধু চক্রের মতো অসচেতন ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও দায়ী বলে মনে করেন এই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি, তবে সচেতন ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম। বেশির ভাগই সংবাদ পায় ফেসবুকের মাধ্যমে। তাই বিশেষ গোষ্ঠী-চক্র ফেসবুকে সুপরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর পোস্ট করে। আর অসচেতন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একটু অন্যরকম-উত্তেজনা জাগানো খবর কেবল শিরোনাম দেখেই শেয়ার করা শুরু করে। এতেই সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি খবর মুহূর্তে ভাইরাল হয়।’

এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানোর আগে সত্যতা যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন,‘ফেসবুকে পাওয়া প্রতিবেদন শেয়ার করার আগে সরাসরি গণমাধ্যমের অনলাইন সাইটে ভিজিট করা ভালো। মূল পত্রিকার ওয়েবসাইটের ডোমেইন নামের কাছাকাছি নাম দিয়ে ‘প্রথম আলু’, ‘কালার কণ্ঠ’ এরকম ডোমেইন চালানো হয়। অনেক সময় অসচেতন ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই ডোমেইন না দেখেই আসল প্রথম আলো,কালের কণ্ঠ ভেবে শেয়ার দিয়ে দেয়।’

বিজ্ঞাপন

গত ১৪ তারিখে দেশ ও সরকারের জন্য স্পর্শকাতর বিষয়ে ডিজিটাল মিথ্যাচারের পর আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার।


পত্রিকার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ায় সাধারণ ডায়েরি করেছে ইংরেজি পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টার।

পত্রিকাটির ডেপুটি এডিটর (ডিজিটাল) ইনাম আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,‘গতকাল আমাদের পত্রিকার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট নজরে আসার পর আমরা জিডি করেছি। ওয়াহিদুজ্জামান নামের একজনের ফেসবুক আইডি থেকে এটা শেয়ার করা হয়েছে বলে আমরা জিডিতে উল্লেখ করেছি। আমাদের সম্পাদক দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরলে এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।’

পত্রিকার নাম এবং সম্পাদকের নাম ব্যবহার করে বানানো স্ক্রিনশটের বিষয়ে পুলিশ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) জানিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো।

নির্ভরযোগ্য এই দৈনিক পত্রিকার বিশেষ সংস্করণের দায়িত্বে থাকা সেলিম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে অবাধ স্বাধীনতাকে নানাজন নানা স্বার্থে ব্যবহার করছে। গতকাল যা হয়েছে তা প্রথম আলোর মতো পত্রিকার জন্য অবমাননাকর। সাইবার দুনিয়ায় যেসব অপরাধ হয় এটিও সেগুলোর একটি। আমাদের কনটেন্ট, লগো, ব্র্যান্ডের ডিজিটাল চুরি ঠেকাতে ইতোমধ্যে আমরা আইনের সহায়তা নিয়েছি। এবারের বিষয়টি নিয়ে আমরা পুলিশ এবং বিটিআরসিকে অবহিত করেছি।’

বিজ্ঞাপন