চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনায় ব্রিটিশ পছন্দ সম্পর্ক-টাকা-ধর্ম-সেক্স

দিনের অনেকটা সময় কাটে সহকর্মীর সঙ্গে। তাই নানা বিষয় আলাপও করা হয় কাজের ফাঁকে। ব্রিটিশরা সহকর্মীর সঙ্গে আলাপের ক্ষেত্রে সেক্স এবং অর্থ- এই দুটি বিষয় বেছে নিতে বেশি পছন্দ করেন। গবেষণায় এমনটাই জানা গেছে।

হেলথ ক্যাম্পেইনাররা ব্রিটেনের ২,০০০ কর্মজীবীর উপর জরিপ চালিয়েছেন। জরিপে দেখা গেছে যে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে তারা সহকর্মীর সঙ্গে একেবারেই আলাপ করেন না । অথচ প্রতি চারজনে একজন কোন না কোন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন ব্রিটেনে।

বিজ্ঞাপন

সহকর্মীর সঙ্গে আলাপের বিষয় নির্বাচন করার তালিকায় ৩০ শতাংশ মানুষ নির্বাচন করেছেন সম্পর্ক এবং ব্রেকআপ-এই দুটি বিষয়। ছাব্বিশ শতাংশ বেছে নিয়েছেন আর্থিক সমস্যার বিষয়টিকে।  বিশ শতাংশ জানিয়েছেন তারা সহকর্মীকে ডেটিং এর ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর ১৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ধর্ম বিষয়ক আলাপ করতে পছন্দ করেন। আঠারো শতাংশ সেক্স নিয়ে সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

জরিপে মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ করেন। অর্থাৎ তালিকায় সবচাইতে কম ভোট পেয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি।

বিজ্ঞাপন

মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ কেরি ম্যাকগোয়ান এর মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কথা বলতে চান না অধিকাংশ মানুষ। কারণ, মানসিক সমস্যা আছে জানলে পদোন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে কিংবা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে পারে এমনটাই ধারণা করা হয়। তিনি মনে করেন, সঠিক জায়গা পেলে কর্মীরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলবেন।

তবে জরিপে অংশ নেয়া অনেকেই জানিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরাসরি আলোচনা না হলেও কোনো সহকর্মী যদি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন, তাহলে তারা তাকে সব ধরণের সহযোগিতা করেন। তবে তারা ঠিক কীভাবে সহযোগিতা করেন, এই ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি। প্রায় ৩৯ শতাংশ কর্মজীবী জানিয়েছেন, সহকর্মী মানসিক সমস্যায় ভুগলে তাকে কীভাবে সহায়তা করা উচিত সে ব্যাপারে কোনো ধারণা নেই তাদের।

টাইম টু চেঞ্জ-এর ডিরেক্টর সু বেকার এর মতে, সহকর্মীকে সহযোগিতা করার জন্য এক্সপার্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। তার কথা মন দিয়ে শোনা এবং তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করানোই যথেষ্ট। তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, সেই ব্যক্তির ব্যাপারে আগ্রহ দেখাতে হবে এবং তার সঙ্গে কথোপকথনের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। এক কাপ চা তৈরি করে দেয়া, একসঙ্গে হাটতে যাওয়াও মানসিকভাবে অনেক সাহস যোগায়। বিষয়টা সহজ না হলেও ধৈর্য ধরে কাজটি করতে হবে।

এছাড়া উচ্চপদস্থরা যদি নিজেদের জীবনের নানা মানসিক সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার উপায়গুলো আলোচনা করেন, সেটাও বেশ কার্যকরী হবে বলে মনে করেন তিনি। ইন্ডিপেনডেন্ট