চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সর্বাত্মক লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করায় জরিমানা

ছুটির দিনেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

করোনা প্রতিরোধে চলা সর্বাত্মক লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে হোটেলে বসিয়ে খাবার পরিবেশন, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং অনুমোদনবিহীন দোকান খোলা রাখায় জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার ছুটির দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) আওতাধীন এলাকায় একযোগে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেসময় মোট ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ১,২ ও ৬ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতসমূহের নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা নাজনিন আজ সাত মসজিদ রোড, ধানমণ্ডি ২৭, পান্থপথ, সোনারগাও রোড, বেইলী রোড ও মগবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

ধানমণ্ডি ২৭ এ বিকেল ৩টার পরেও একটি চশমার দোকান খোলা রাখায় তিন হাজার টাকা, বিনা কারণে রাস্তায় বের হওয়ার একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে এক হাজার টাকা এবং বেইলি রোড এলাকায় অনুমোদনবিহীন ফুটপাতের ওপর জিলাপি বিক্রি করায় ভাজা ও বিক্রি করায় এ-ওয়ান বেকারিকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়াও অভিযানে তিনটি মামলা ও নগদ ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অঞ্চল-২ এর নির্বাহী কর্মকর্তা সুয়ে মেন জো’র তত্ত্বাবধানে ফকিরাপুল বাজার, মুগদা কাঁচাবাজার, ওয়াসা বাজার ও মান্ডা মেইন রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাস্ক না পরায় ১০ ব্যক্তিকে সাময়িক সময় আটকে রেখে পরে তাদেরকে মাস্ক পরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ সময় শারিরীকভাবে অক্ষম এমন আরও কয়েকজনকে মাস্ক পরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা এবং অননুমোদিতভাবে দোকান খোলা রাখায় প্রায় ১০০ ব্যক্তি ও দোকানকে সতর্ক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অঞ্চল -৬ এর এর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার নগরীর নন্দী পাড়া বাজার এলাকায় আজ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং লকডাউনে সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ করেন।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ অঞ্চল-৬ এর ডেমরা, সারুলিয়া, ডেমরা ষ্টাফ কোয়ার্টার ও বনশ্রী’র বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেন।

এ সময় সরকারী নির্দেশনা না মানায় তিনটি মামলার মাধ্যমে সাত হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ আজ যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, ডেমরা, কোনাপাড়া, শনির আখড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এ সময় সরকারি নির্দেশ ভঙ্গ করে বেলা তিন’টার পরেও দোকান খোলা রাখা, হোটেলে বসিয়ে লোকজনকে খাবার পরিবেশন করা, সরকার ঘোষিত অনুমোদিত দোকান ব্যতীত অন্যান্য দোকান খোলা রাখায় আদালত পাঁচটি মামলা এবং সর্বমোট ১৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বেলা তিন’টার পরেও দোকান খোলা রাখায় শতাধিক দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবীর ত্রপা অঞ্চল ৩ এর আওতাধীন মৌলভীবাজার, চকবাজার ও ইসলামবাগ বাজার অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় সরকারি নির্দেশনা না মানায় দুটি মামলায় এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণ লকডাউন মেনে চললেও দু’য়েকটি জায়গায় সরকারি নির্দেশ ভঙ্গ করে হোটেলে বসিয়ে লোকজনকে খাবার পরিবেশন করা, বেলা ৩টার পরেও দোকান খোলা রাখা এবং অননুমোদিত দোকান খোলা রাখায় আজ পাঁচটি মামলা দায়ের করেছি। এসব মামলায় ১৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।”

অভিযানে সব ক’টি আদালতই লকডাউনের নির্দেশনা মেনে চলতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে মাইকিং করেন। এছাড়াও বিনা প্রয়োজনে অযথা বাড়ির বাইরে বের না হওয়া, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

বিজ্ঞাপন