সম্পাদকীয়

সময় সাফল্য উপভোগের, লক্ষ্য ধারাবাহিকতার

ক্রিকেটার ও বিজয়ী খেলোয়াড়ের হাতে ট্রফি, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ক্রিকেটার ও বিজয়ী খেলোয়াড়ের হাতে ট্রফি, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরা।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

শঙ্কা ছিল অস্ট্রেলিয়ার আসা নিয়েই। তাদের অজুহাত ছিল নিরাপত্তা। যাকে ইস্যু করে দু’ বছর শঙ্কায় রাখার পর বাংলাদেশে আসার আগ পর্যন্তও দোলাচল চলল, বোর্ড-ক্রিকেটার বেতনভাতা দ্বন্দ্বে। শেষপর্যন্ত তারা এসেছে। ধন্যবাদটা প্রাপ্যই। মুশফিক হারা ম্যাচের বেদনা চেপে সেটি জানাতেও ভুললেন না। সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার মত দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেলে ছেলেরা অনেককিছু শিখতে পারে। এই শেখা আর সেটাকে পারফরম্যান্সে রূপান্তরের প্রক্রিয়া বছর দুয়েক ধরেই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। সময়টাতে পারফরম্যান্সের ঊর্ধ্বগামীতা যেমন বেড়েছে, বেড়েছে পারফর্মারের সংখ্যাও। যার সম্মিলনে এল আরেকটি অর্জন, টেস্টে প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর গৌরব। গৌরবটা বয়ে আনার জন্য মুশফিক ও তার দল ধন্যবাদ পাবে নিশ্চিতভাবেই। ১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েই নিজেদের জাতটা চেনানোর জন্য টাইগার দল, কোচিংস্টাফ থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিবির কর্মকর্তারাও পাবেন ধন্যবাদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর থেকে অজিদের নিরাপত্তা-জুজুকে ভুল প্রমাণে সচেষ্ট ছিল, ধন্যবাদটা প্রাপ্য তাদেরও। সেইসঙ্গে মনে রাখতে হবে এটা বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কেবল শুরু। সামনে আছে আরও অনেকধাপ। গত বছর ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারানোর পর এবার অস্ট্রেলিয়া। প্রথম চ্যালেঞ্জ এই ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখা। পরের চ্যালেঞ্জ সেটাকে ঘরের মাটি থেকে বিদেশের মাটিতে জেতার পরিস্থিতিতে নেয়া। সেই সামর্থ্য বাংলাদেশ দলের ভালো করেই আছে। তারপরও অনেকটা কঠিন পথ তাদের সামনে। সেই পথের জন্য থাকতে হবে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তামিম-সাকিব-মুশফিকরা দেড় যুগের তেমন পরিকল্পনারই ফসল। এখন যারা আসছে, মোস্তাফিজ-মিরাজদের মত তরুণরা, তাদের সঠিক পরিচর্যার মধ্যে রাখতে হবে। অতীতে কাপালি-আফতাবদের মত অমিত প্রতিভাধরদের আমরা ঝরে যেতে দেখেছি, সৌম্য-সাব্বিররা যাতে সেই পরিণতির দিকে না হাঁটে সেদিকেও নজর রাখতে হবে। নতুন নতুন প্রতিভা তুলে আনার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে এখন থেকেই। তামিম-সাকিবরা আরও দশ বছর খেলবেন না নিশ্চিত, তবে তাদের বিদায়ের আগেই যেন বিকল্প প্রস্তুত রাখা যায় নজর দিতে হবে সেদিকেও। দ্বিতীয় টেস্টে জেতা যায়নি। তবে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের মহিমা ম্লান হয়ে যাচ্ছে না তাতে। এখন তাই সাফল্য উপভোগের সময়। সময় ভুল-ভ্রান্তিগুলো শুধরে সামনের সিরিজের দিকে মনোযোগ দেয়ার। লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে রাখার সোপান গেঁথে চলার। আমরা বিশ্বাস করি চেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে টিম টাইগার্স সেদিকেই এগিয়ে যেতে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আরো একবার অভিনন্দন।

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…