চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সম্রাটের বিরুদ্ধে সিআইডি’র মামলা

ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি (নং-১৪) দায়ের করেন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট এর ফিনান্সিয়াল ক্রাইমের এসআই রাশেদুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি’র সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি মিডিয়া) জিসানুল হক বলেন, কাকরাইল বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও অপরাধলব্ধ আয়ের উৎস গােপন করার অভিপ্রায়ে তার সহযােগী আসামি মাে.এনামুল হক আমানের (৫৬) সহায়তায় অবৈধভাবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন।‌‌ সিআইডি অনুসন্ধান চালিয়ে ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করেছে।

বিজ্ঞাপন

মানিলন্ডারিং আইনে সিআইডির দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন। তার উপার্জিত অবৈধ অর্থের মধ্যে ১৯৫ কোটি টাকা তিনি তার সহযোগী আসামি আরমানের সহায়তায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া পাচার করেছেন।

সম্রাটের বিদেশ ভ্রমণের পর্যালোচনামূলক তথ্যও সিআইডি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছে।

বিজ্ঞাপন

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে জানায়, ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় তিনবার, দুবাইতে দুবার এবং হংকং-এ একবার যাতায়াত করেছেন। আর তার অপরাধের সহযোগী আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত
সিঙ্গাপুরে পঁচিশবার যাতায়াত করেছেন।

এর আগে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মাদক আইনে ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

গত বছরের ১২ নভেম্বর দুদকের করা মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনা হয়।

ওই মামলায় গত ১৮ আগস্ট আদালতে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরে র‌্যাবের ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর পরই আত্মগোপনে যান যুবলীগ নেতা সম্রাট৷ যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাতভর সদলবলে কাকরাইলে সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন বলেও খবর বের হয়৷ সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেনি৷ পরবর্তীতে আত্মগোপনে যান তিনি৷

পরে ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা থেকে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ও চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে আলোচিত ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।