চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সম্প্রচার মাধ্যম পৃথিবীকে একীভূত করেছে: আরেফিন সিদ্দিক

জাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপার্চায অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরোফিন সিদ্দিক বলেছেন: গণমাধ্যম ও যোগাযোগ শিক্ষা পুরো বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। বর্তমানে সম্প্রচার মাধ্যম পুরো পৃথিবীকে একীভূত করেছে।

তিনি বলেন: গণতন্ত্র বিকাশের জন্য গণমাধ্যম শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। একবিংশ শতাব্দীতে এসে অন্যান্য শিক্ষার সাথে যোগাযোগ শিক্ষা ও গণমাধ্যম শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সাংবাদিকতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বর্তমানে সাংবাদিকগণ সংবাদের উৎসে পৌঁছে সেখান থেকেই সংবাদ পরিবেশন করছেন।

বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় বিভাগের উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন: কাল্পনিক তথ্য দিয়ে সংবাদিকতা ছেড়ে সাংবাদিকদের বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। অপসাংবাদিকতা মুক্ত সাংবাদিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সম্পাদনা ভিত্তিক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে জনমানুষের বিশ্বাস ও আগ্রহ তৈরী করে। পেশা হিসেবে সাংবাদিকতায় সবসময় চ্যালেঞ্জ থাকবেই কারণ মূহুর্তের একটি ভুল সিদ্ধান্ত শেষ পর্যায়ে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা হারাতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আলোচনা সভা ৪৬ তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ৪১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যায় এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম বলেন: দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সাংবাদিকতায় পুরোপুরি সত্য হতে হবে। শতভাগ সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। একজন মানুষ হিসেবে সাংবাদিককে মানবদরদী, প্রাণ দরদী হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপার্চায অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির বলেন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের যাত্রা শুরু হয় একটি মহতী উদ্দেশ্য নিয়ে। সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ ও জাতিকে সবসময় সঠিকভাবে উপস্থাপন করবে এজন্য সাংবাদিকতার পাশাপাশি আরো বেশী ইতিহাস জানতে হবে।

তিনি বলেন: কপি-পেস্ট মুক্ত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকতার প্রসার ঘটাতে হবে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানের বেয়নেটের চেয়ে শক্তিশালী ছিল সাংবাদিকদের কলমের শক্তি। তাই এর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।

সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. অসিত বরণ পাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে ৪৬ ব্যাচের নবীণ শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয় এবং পরে ৪১ ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বিদায় জানানো হয়। এখানে একদিকে যেমন বিদায়ের বাণী ধ্বণিত হয়েছে; ঠিক অন্য দিকে নতুনের আগমনে আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে। দিনব্যাপী পুরো অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষক, সকল ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন