চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সম্পর্ক ভুলে মরিনহো-ল্যাম্পার্ডের ‘কথার যুদ্ধ’

চতুর্থবারের মতো ‘গুরু মারা বিদ্যা’ ফলাতে চেয়েছিলেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। প্রতিপক্ষ হিসেবে সাবেক গুরু হোসে মরিনহোকে আগে তিনবার হারিয়েছে। কিন্তু এবার গুরুর কাছে হারতে হয়েছে চেলসি কিংবদন্তিকে। টাইব্রেকে মরিনহোর দল টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে হেরে কারাবাও কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে চেলসি।

মঙ্গলবার কারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র শেষে টাইব্রেকে চেলসিকে হারায় টটেনহ্যাম। ড্রয়ে শেষে হলেও ম্যাচে ঘটে গেছে মনে রাখার মত ঘটনা! গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক ভুলে ডাগআউটে একে অন্যের সঙ্গে কথার যুদ্ধে জড়িয়েছেন মরিনহো-ল্যাম্পার্ড।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপিয়ান ফুটবলে চেলসির জায়ান্ট হয়ে উঠা হোসে মরিনহোর হাত ধরে। স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ যখন নিজের মনের মত করে চেলসিকে গড়ছেন তার সেই দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র ছিলেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। ২০০৪/০৫, ২০০৫/০৬ মৌসুমে পরপর দুবার যখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতলো লন্ডনের ক্লাবটি ল্যাম্পার্ড তখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে।

বিজ্ঞাপন

খেলা ছেড়ে এখন সেই চেলসির দায়িত্ব ল্যাম্পার্ডের কাঁধে, আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাস লন্ডনের আরেক ক্লাব টটেনহ্যামের কোচ হয়েছেন মরিনহো। মঙ্গলবার দুজন দুই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তবে মরিনহো-ল্যাম্পার্ডের পুনর্মিলনটা অবশ্য মোটেও সুখের হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ডাগআউটে দাঁড়িয়ে যথারীতি রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছিলেন মরিনহো। এবং বেশ চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে! বিষয়টা খুব একটা পছন্দ হয়নি ল্যাম্পার্ডের। এক পর্যায়ে সাবেক গুরুর দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় তাকে, এগিয়ে আসেন মরিনহোও। দুইজন একে-অন্যের দিকে আঙুল তুলে কথাও চালাচালি করেছেন কিছুক্ষণ।

কি বলেছেন একে-অন্যকে সেটা অবশ্য জানা যায়নি তবে মাঠের ঝগড়া মাঠেই ভুলে দুইজন দুজনকে প্রশংসা করলেন বেশ। সাবেক গুরুর সঙ্গে যা হয়েছে সেটা মজা বলেই উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন ল্যাম্পার্ড, ‘লাইনের কাছে আমরা দুজন বেশ মজা করেছি। হোসে আমাকে বলেছে আর আমি হোসেকে। একটা সময় দেখলাম খেলোয়াড়দের দিকে কথা বলার চেয়ে সে রেফারিকেই কথা ছুঁড়ছে বেশি। তাই বাধ্য হয়ে তাই আমাকেই বলতে হলো।’

সারাজীবন ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত মরিনহোও তার স্বভাব পাল্টে সাবেক শিষ্যের প্রশংসা করলেন বেশ,‘ফ্র্যাংকের সঙ্গে যতই কথা কাটাকাটি হোক না কেন তার প্রতি আমার অনুভূতি অন্যরকম।’

‘তার প্রতি আমি ঋণী। যতটা না খেলোয়াড় তারচেয়ে বেশি বন্ধু ল্যাম্পার্ডের কাছে আমি বেশি ঋণী।’