চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সম্পত্তি নিয়ে গোলমাল, ম্যারাডোনার কবর খোঁড়ার দাবি!

বিশ্বকে কাঁদিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনার চলে যাওয়ার একমাসও হয়নি, এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে তার সম্পত্তি নিয়ে লড়াই। কোমর বেধে নেমে পড়েছেন আইনজীবীরাও। প্রয়োজন হলে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির কবর খোঁড়ার দাবিও উঠেছে আদালতে!

সমস্যা তৈরি হয়েছে ম্যারাডোনার সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে। মনে করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে বিপুল সম্পত্তি রেখে গেছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। যার পরিমাণ আনুমানিক ১ থেকে ৪ কোটি ডলার। ধারণাকৃত এই বিপুল সম্পত্তির নতুন মালিক কে হবেন, তা নিয়ে লড়াইয়ে শুধু ম্যারাডোনার ছেলে-মেয়েরা বা সাবেক স্ত্রী-প্রেমিকারা রয়েছেন, তা নয়। লড়াইয়ে আছেন সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহকরাও।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সমস্যা আরও বেড়েছে ম্যারাডোনার কোনো উইল না থাকায়। আর্জেন্টিনার আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি তার উইলে সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ স্ত্রী-সন্তান ছাড়া বাকিদের মধ্যে ইচ্ছেমতো ভাগ করে দিতে পারেন। বাকি দুই তৃতীয়াংশ স্ত্রী-সন্তানদের জন্য বরাদ্দ রাখতেই হবে। যেহেতু এখানে কোনো উইল নেই, সম্পত্তির লড়াইটা আরও কঠিন হতে চলেছে।

এদিকে যারা নিজেকে ম্যারাডোনার সন্তান বলে দাবি করছেন, কিন্তু ম্যারাডোনা তাদের কখনও স্বীকৃতি দেননি, তাদের মামলা আদালতে উঠলে ডিএনএ পরীক্ষা হবে। ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে, সেক্ষেত্রে ম্যারাডোনার কবর খোঁড়া হোক!

গত ২৫ নভেম্বর হার্ট অ্যাটাকে বুয়েন্স আয়ার্সে নিজ বাড়িতে মারা যান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। সেদিন থেকেই শুরু সম্পত্তি নিয়ে রেষারেষির। গত কয়েক বছর ধরে ম্যারাডোনার আইনজীবী হিসেবে থাকা মরিসিও দালেসান্দ্রো বলছেন, ‘জানি না কারা কারা সম্পত্তির ভাগ চাইবেন, কিন্তু তালিকাটা লম্বা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’

বিজ্ঞাপন

ম্যারাডোনার সম্পত্তি ঠিক কত সেটা জানা না গেলেও প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্বস বলছে পরিমাণটা ১ থেকে ৪ কোটি ডলার।

এরমধ্যে রয়েছে জমি, বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি, গয়না। যেসব দেশে তিনি খেলেছেন বা কোচিং করিয়েছেন বা অন্য কোনভাবে যুক্ত ছিলেন সেই আর্জেন্টিনা, স্পেন, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বেলারুশ, মেক্সিকোয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এসব সম্পত্তি।

এসব সম্পত্তির দাবি যারা জানাতে পারেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বীকৃত পাঁচ সন্তান। চারজন আর্জেন্টিনায়, একজন ইতালিতে। এছাড়া আছেন আরও ছয়জন, যারা নানা সময়ে নিজেদের ম্যারাডোনার সন্তান বলে দাবি করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ম্যারাডোনা বলে এসেছেন জিয়ানিনা এবং ডালমা ছাড়া তার আর কোনো সম্তান নেই। এ দুজনই ম্যারাডোনার সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া ভিলাফেনের কন্যা। দীর্ঘ ২০ বছরের বিবাহিত জীবন কাটানোর পর ক্লদিয়ার সঙ্গে ম্যারাডোনার বিচ্ছেদ হয় ২০০৩ সালে।

এর বাইরেও ম্যারাডোনা তার আরও ছয় সন্তানের কথা স্বীকার করতেন। এই ছয়জনের মধ্যে চারজন কিউবায়, দুইজন আর্জেন্টিনায়। রয়েছেন সাবেক স্ত্রী-বান্ধবীরাও। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির দাবি জানিয়ে লড়াইয়ে নামেন আরও দুই ‘সন্তান’ সান্তিয়াগো লারা এবং মাগালি গিল । দুজনেই বলেছেন, তারা নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আইনী পথে নামবেন। বাদ নেই ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাংবাদিক এমনকি চিত্রগ্রাহকরাও।

আইনজীবী দালেসান্দ্রো বলছেন, ‘যারা দাবি করবেন, তাদের দ্রুত আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। মনে হচ্ছে ম্যারাডোনাকে নিয়ে মোট ৬০টি মামলা উঠবে আদালতে। এর অধিকাংশই অবশ্য মানহানির মামলা, যেগুলো এতদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক, ফটোগ্রাফাররা বিভিন্ন সময়ে ঠোঁটকাটা ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন। এবার তারাও এই সম্পত্তির ভাগ চাইবেন। বহু ব্যবসায়ী, মহাজনের থেকে টাকা ধার নিয়েছেন ম্যারাডোনা। তারাও চুপ করে বসে থাকবেন না। কারণ, এই টাকার অঙ্কটাও কম নয়।’