চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন

বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালন শুধু সমুদ্র সম্পদ রক্ষার আলোচনা নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং মনিটরিং প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন গবেষক ও পরিবেশবাদিরা। ৯ জুন বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ও ওয়ার্ল্ড ফিসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনলাইন আলোচনায় এ সব বিষয় উঠে আসে। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষক, গবেষক, পরিবেশবিদগণ। আলোচনায় বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, নিয়ম না মেনে আহরণের কারণে সমুদ্রের মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, সমুদ্রের অভ্যন্তরীণ জীববৈচিত্র ধ্বংস হচ্ছে। সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় শুধু আলোচনা নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং মনিটরিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো সজাগ হতে হবে বলে মনে করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রকৃতির প্রতি হারিয়ে যাওয়া মমত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। প্রকৃতির প্রতি আমরা নির্মম বলেই করোনা আমাদের একটি শিক্ষা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এজন্য সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। সমুদ্রকে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরিন আক্তার বলেন, করোনা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির প্রতি আমরা নির্মম। এর থেকে উত্তরণ ও পরিবেশ রক্ষায় সমুদ্র নিয়ে পড়াশুনা করা শিক্ষার্থীদের দক্ষ বিজ্ঞানী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ সমুদ্র সম্পদকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সিলেট ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ওশানোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাশেদ তালুকদার মনে করেন, সমুদ্র নিয়ে শুধু পড়াশুনা করলেই হবে না, সে সম্পর্কিত আইনের বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান নিতে হবে ওশানোগ্রাফির শিক্ষার্থীদের। প্রয়োজনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন, মায়েভ নাইটিঙ্গেল সমুদ্র দূষণে অন্যতম কারণ সামুদ্রিক প্লাষ্টিক বর্জ্যকে দায়ী করেন। কিভাবে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা যায় সেটি নিয়ে কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান আইইউসিএন কাজ করছে উল্লেখ করে এবিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোহিগতা প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সমুদ্র পাড়ের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া সমুদ্র সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। এমনটা মনে করেন সেন্টার ফর নেচালার রিসোর্স স্টাডিস (সিএনআরএস) এর পরিচালক এম আনিসুল ইসলাম। এই জনগোষ্ঠিকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার উপর জোর দেন তিনি।

সরকারের একশ বছরের যে ডেল্টা প্ল্যান তাতে মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন বলে মত দিন তিনি। সমুদ্র নিয়ে কাজ করা সব প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় সাধন করে কোথায় ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে সেটি খুঁজে বের করার তাগিদ দেন এসইউএফএএল’র প্রযুক্তি বিষয়ক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ। সমুদ্র নিয়ে তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, গবেষণা বাড়ানো ও আইনের উন্নয়ন চান তিনি।