চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

বুধবার টানা চতুর্থ দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারিরা। এদিন তাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়া ৮৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলছেন, এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা না দিলে বাড়ি ফিরে যাবেন না। যদিও আগের দিন মঙ্গলবার এসব স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের অনশন ভাঙাতে সেখানে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি হবে, সেজন্য একটু সময় লাগবে। কারণ নীতিমালা করতে হলে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এমন আশ্বাস বলতে গেলে সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষক নেতারা। তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ২০১১ সাল থেকেই এমন আশ্বাস দিয়ে আসছেন। কিন্তু গত সাত বছরে এ বিষয়ে চুল পরিমাণও অগ্রগতি হয়নি। বরং বঞ্চনা বেড়েছে দিনের পর দিন। তাই তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারি এমপিওভুক্তির জন্য স্বীকৃতি পায়। যারা দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বলতে গেলে বিনা বেতনে শিক্ষাদান করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের মানবেতর জীবন-যাপনের খবর কেউ রাখেনি। আমরা জানি, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ দিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ফুটপাতে অবস্থান করছেন এসব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারি। এই সময়ে বই উৎসব, পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মতো বড় গুরুত্বপূর্ণ দিনেও তারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারেননি। এজন্য তাদের পক্ষ থেকে দুঃখও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন এত বছর ধরে চলা এই সমস্যার সমাধান করা গেলো না? চলতি অর্থবছরে (২০১৭-১৮) শিক্ষাখাতে ৫০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। প্রতি বছরই এই খাতে এমন বিপুল পরিমাণ অর্থবরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারপরও শিক্ষামন্ত্রী দাবি করছেন, বরাদ্দ নেই। আমরা মনে করি এখানে অর্থ নয়, মূল সমস্যা আন্তরিকতার। মন্ত্রণালয় আন্তরিক হলে খুব দ্রুতই এইসব অভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের সমস্যা সমাধান সম্ভব। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক।