চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সমলিঙ্গ পরিবারে বেড়ে ওঠা কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীর বৈচিত্র্যময় গল্প

সানা ম্যারিন নামটা এখন অনেকের কাছেই পরিচিত। সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খেতাব পেয়েছেন তিনি। তবে তার বেড়ে ওঠা গল্পটি বেশ বৈচিত্র্যময়। ম্যারিন একজন সমলিঙ্গ দম্পতির সন্তান।

তবে নিজের ব্যক্তিগত জীবন সংবাদমাধ্যম থেকে গোপন রাখতেই পছন্দ করেন ৩৪ বছর বয়সী সানা। নিজের সম্বন্ধে শুধু এ টুকু বলেন, তিনি রামধনু পরিবারের সন্তান।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে সানার জন্ম ১৯৮৫ সালের ১৬ নভেম্বর। জন্মগত নাম সানা মিরেলা ম্যারিন।

তবে সমলিঙ্গের পরিবারে বেড়ে ওঠা নিয়ে সানাকে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশ্বে এখনও এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ট্যাবু রয়েছে। এগুলো শিশুদের ওপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব পরে থাকে।

এ বিষয় নিয়ে সানা বলেন, ‘পরিবার নিয়ে নীরবতা ছিল সবচেয়ে কঠিন আমার জন্য। আমরা সমাজে একটা পূর্ণাঙ্গ পরিবার হিসেবে কখনও স্বীকৃতি পাই নাই। তবে কেউ হয়রানি করতে চাইলে আমি প্রতিবাদ করতাম। আমি শৈশব বেলায় খুব আনমনে এবং একগুঁয়ে ছিলাম। কারণ আমি সব কিছু খুব সহজেই পায়নি।’

তবে ম্যারিন তরুণী অবস্থায় কাজ করছে একটা বেকারীতে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শ্রমিক পরিবারের মেয়েটি নাম এখন সবার মুখে মুখে। তবে তার সব অর্জনে তার পাশে ছিলেন তার মা।

১৯ বছর বয়সে ২০০৪ সালে তিনি হাই স্কুল উত্তীর্ণ হন। তিন বছর পরে স্নাতক হন ইউনিভার্সিটি অব ট্যাম্প্রে থেকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সায়েন্সেস বিষয়ে। রাজনীতিতে প্রবেশ ২৭ বছর বয়সে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাম্প্রে সিটি কাউন্সিলের সদস্য হন সাতাশেই। এরপর চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব। ২০১৪ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দ্বিতীয় ডেপুটি চেয়ারপার্সন হন তিনি। ২০১৫ সালে ৩০ বছর বয়সে প্রথমবার ফিনল্যান্ড পার্লামেন্টের সাংসদ নির্বাচিত হন ম্যারিন। ২০১৯ সালের ৬ জুন দায়িত্ব নেন দেশের যোগাযোগ ও পরিবহণমন্ত্রী হিসেবে।

ডাকবিভাগে ধর্মঘট নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে জোটসঙ্গী সেন্টার পার্টি সমর্থন তুলে নেওয়ায় সম্প্রতি সরকার ভাঙে ফিনল্যান্ডে। আস্থা ভোটে হেরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অ্যান্টি রিনে। সেই শূন্য আসনেই ম্যারিনকে নির্বাচিত করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা। খুবই অল্প ভোটে জিতে তিনি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন।

রাজনীতি-বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ম্যারিনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ডাকবিভাগের ৭০০ কর্মীর বেতন ছাঁটাই নিয়ে এখনও অচলাবস্থা রয়েছে এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির একাংশে। চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন দলীয় নেত্রী। পিছু হটেছেন ডাক বিভাগের সংস্কার সিদ্ধান্তেও। এখন রিনের উত্তরসূরি হিসেবে যাবতীয় পরিস্থিতি সামলাতে হবে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীকে।

তরুণ তুর্কী ম্যারিন অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘বয়স বা লিঙ্গ নিয়ে আমি কোনও দিন ভাবিনি। কেন আমি রাজনীতিতে এসেছি, সেটাই ভাবি। ভাবি, কেন আমি দলের আস্থাভাজন হলাম। যথাযথ ভাবে নিজের দায়িত্বপালনের চেষ্টা করব।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ফিনল্যান্ডের উপরেও গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর চাপ রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ রক্ষায় দায়বদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েই ম্যারিন বললেন, ‘‘দেশ তথা গোটা বিশ্বের আস্থা অর্জনের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।’’

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডের্নের বয়সও চল্লিশ পার হয়নি। ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে ম্যারিনের তুলনা শুরু হয়ে গিয়েছে। জেসিন্ডার মতো ম্যারিনও সদ্য মা হয়েছেন। ম্যারিনের মেয়ে এমার বয়স এখনও দু’বছর হয়নি। এমার জন্ম ২০১৮-র জানুয়ারিতে।

ম্যারিন অবশ্য এখনও বিয়ে করেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভ ইন করছেন পার্টনার মার্কাস রাইক্কোনেনের সঙ্গে। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনা আছে দু’জনের।

শেয়ার করুন: