চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সব ভাই বোনরা মিলে একসাথে মেলায় যেতাম: শর্মিলী আহমেদ

আমাদের ছোটবেলা পহেলা বৈশাখ উদযাপন এতো আড়ম্বরের সাথে হতো না। হালখাতার উৎসব হতো, সেই উৎসবের কথা এখনকার তরুণেরা হয়তো জানে না তেমন। বড় বড় দোকান কাঁসার, তামার, খাবারের, মুদির দোকান সবগুলো সাজানো হতো ফুল দিয়ে। আর সব ক্রেতাদের বাসায় বাসায় অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হতো, যাতে লেখা থাকতো ‘হালখাতায় আপনার আমন্ত্রণ’।

সবাই বুঝে যেত নতুন খাতা খোলা হবে, সব বকেয়া বিল পরিশোধ করে দিতো সবাই আগেই। আমরা বাবার সাথে যেতাম, মিষ্টি নাড়ু খেতাম। মেলা হতো বিকেলে। তখন বাড়ির বউরা তো তেমন বের হতেন না, মা চাচাকে বলে দিতেন সবাইকে সাবধানে নিয়ে যাবে। আমরা যৌথ পরিবারের অংশ ছিলাম। সব ভাই বোনরা একসাথে মেলায় যেতাম। মেলায় নানান খেলনা, মাটির মানুষ, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি বানানো হতো মাটির খেলনা।  আমার সেদিকেই চোখ থাকতো। মাটির খেলনাগুলোর কী রঙ, নানারকমের রঙের হতো !

বিজ্ঞাপন

এছাড়া আমার মা-বাবার বিবাহবার্ষিকীও একই দিনে, তাই পোলাও-মাংস-মাছ নানান খাবারের আয়োজন হতো বাসায়। আত্মীয়স্বজন আসতেন। পান্তা-ইলিশের প্রচলন তখন ছিল না। আব্বা আম্মাকে শাড়ি দিতেন, নতুন শাড়ি। আম্মা লজ্জা লজ্জা হাসি নিয়ে সে শাড়ি পরতেন। এসব মিষ্টি স্মৃতি এখনো চোখে ভাসে আমার!

এটাই বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসব। সম্প্রীতির উৎসব।  আজকের উৎসব যে এরকমভাবে হতে পারে তখন তো তা কল্পনাতেও ছিল না আমাদের।

ফিচার ছবি: আরিফ আহমেদ

Bellow Post-Green View