চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সবার আগে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে

চার দিন আগে ভারতের আঘাতের পর দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া ঘূর্ণিঝড় ফণীতে ঠিক কতটা ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিরূপণ করতে পারেনি সরকার। তবে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘ফণীতে কৃষিখাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।’

হয়তো ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত উঠে আসতে আরো সময় লাগবে। কেননা এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মন্ত্রী যখন বলছেন, কৃষিতে প্রায় সাড়ে ৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার আগেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়া দান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) ফণীতে প্রাথমিক ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব দিয়ে বলছে, দেশের ২৬ জেলায় অন্তত ১ হাজার ৮৩০ একর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ একরের ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কৃষির বাইরে আবার সারাদেশে ২১ হাজার ৩৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে ক্ষতির পরিমাণ যে ধারণার চেয়েও কম হয়েছে, তা সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস এবং আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে আগেভাগেই সরিয়ে নেয়ায় প্রাণহানী তেমন হয়নি বললেই চলে।

যদি আমরা প্রাথমিকভাবে কৃষিমন্ত্রীর তথ্যকে সঠিক ধরেও নেই, তবুও নিশ্চিত করেই বলা যায়, আসলে তেমন ক্ষতি হয়নি। কেননা ফণী প্রথমে আঘাত হেনেছে ভারতের উড়িষ্যায়। সেই উড়িষ্যার মূখ্যমন্ত্রী ফণীর ক্ষতি মোকাবিলায় ১৭ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে কেন্দ্রের কাছে। এই সংখ্যা দিয়ে বোঝা যায়, কি ভয়ানক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে সেখানে।

তবে ক্ষতি যতো সামন্যই হোক না কেন, তা ক্ষতিই। বিশেষ করে আমাদের প্রান্তিক কৃষকদের অবস্থা আমরা সবাই জানি। এই ক্ষতির বেশির ভাগ শিকার তারাই। তাই ক্ষয়-ক্ষতি কম বা বেশি যাই হোক না কেন, সরকারের উচিৎ অতি দ্রুত এসব প্রান্তিক কৃষকের পাশে দাঁড়ানো। আমরা মনে করি, সবার আগে তাদের ক্ষতি লাঘবে কাজ করতে হবে। তারপর অন্য কিছু। কেননা এদেশের মেরুদণ্ডই হলো কৃষক ও কৃষি।

Bellow Post-Green View