চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সন্ধ্যার অস্বস্তিতে কেবল কোহলির ব্যাটিংটাই স্বস্তি ভারতের

যতক্ষণ ছিলেন, ভালোই খেলছিলেন বিরাট কোহলি। অধিনায়কের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল অ্যাডিলেডের রাতটা স্বস্তিতেই পার করে দেবে ভারত। হঠাতই মনোযোগ নড়ে গেল, রানআউট হলেন কোহলি, সঙ্গে সন্ধ্যার আলোতে নড়বড়ে হয়ে গেল ভারতের ইনিংসও।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেডে দিবা-রাত্রির টেস্টে প্রথম রাতটা ভালো-খারাপের মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে শেষ করেছে সফরকারী ভারত। রান ৬ উইকেটে ২৩৩। ৯ রানে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা ও ১৫ রানে রবিচন্দ্র অশ্বিন করবেন দ্বিতীয় দিনের শুরু।

বিজ্ঞাপন

দিনের শুরুটা ধাক্কা দিয়ে হয় ভারতের। চমকে দিয়ে ওপেনার হিসেবে দলে জায়গা পাওয়া পৃথ্বী শ আউট হয়েছেন ইনিংসের প্রথম বলেই। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের দুর্বলতার জায়গা অফস্টাম্পে বল পিচ করেছিলেন মিচেল স্টার্ক, যাতে ইনসাইড এজে মিডল টাম্পে টেনে শূন্যরানে বোল্ড পৃথ্বী।

দলীয় ৩২ রানে আরেক ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে হারায় সফরকারীরা। এটিও বোল্ড। আগারওয়ালকে সাজঘরের পথ দেখান স্টার্কের পেসসঙ্গী প্যাট কামিন্স।

বিজ্ঞাপন

১৯তম ওভারের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে নিজেদের খোলসবন্ধি করে ফেলেন চেতেশ্বর পূজারা ও কোহলি। প্রথম সেশনটা পার করে দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাবধানে খেলে শামুক গতিতে তারা যোগ করেন ১৮৯ বলে ৬৮ রান।

৫০তম ওভারে এসে পূজারা-কোহলির জুটি ভাঙেন নাথান লায়ন। লেগ গালিতে মার্নাস লাবুশেন পূজারার ক্যাচ নিলেও শুরুতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউতে মেলে ব্যাটে লেগেই বল হাতে গেছে লাবুশেনের, থামে ১৬০ বলে পূজারার ধৈর্যশীল ইনিংসটি। ২৬.৮৮ গড়ে মাত্র দুটি চার মেরেছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

ধৈর্যের প্রতিমা হয়ে ছিলেন কোহলি নিজেও। চতুর্থ উইকেট জুটিতে আজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে ধীরস্থির ৮৮ রান দেখে মনে হচ্ছিল, শেষ সেশনটা নিরাপদেই পার করবেন দুজনে। ১৮০ বল খেলে ৭৪ রান তোলা কোহলি পাচ্ছিলেন ২০২০ সালের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির সুবাস। ছোট এক ভুলে সেটি হয়নি। রাহানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে যান কোহলি। ৭৭তম ওভারে ভারত হারায় চতুর্থ উইকেট।

কোহলি ফেরার ১৮ রানের মধ্যে ৪২ করা রাহানে ও ১৬ রান করা হনুমা বিহারিকে হারিয়ে বিপদে পড়ে সফরকারীরা। ঋদ্ধিমান ও অশ্বিনের সাবধানী ব্যাটিংয়ে শেষদিকে আর উইকেট হারাতে হয়নি তাদের।