চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সন্তান নেয়ার জন্য ২০২০ সালটাই আমার টার্গেট ছিলো: পিয়া

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশি মডেল পিয়া জান্নাতুল সন্তান সম্ভবা। প্রথমবারের মতো মাতৃত্বের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন তিনি। আসছে ফেব্রুয়ারির দিকে তার ঘরে আসার কথা নতুন সদস্য। স্বভাবতই ভীষণ উত্তেজিত তিনি। দেশের মডেলিংয়ের আইকনিক এ ব্যস্ত তারকা তার মা হতে যাওয়া এবং বর্তমান লাইফস্টাইল নিয়ে কথা বলেছেন চ্যানেল অনলাইনের আইয়ের সাথে। যার কিছু অংশ থাকলো এখানে…

আপনি মা হতে যাচ্ছেন, প্রথম যখন সংবাদটা শুনলেন কেমন লেগেছিল?
সত্যি আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। কারণ জীবনে সবকিছু ব্যাটেবলে মেলে না। গোছানো থাকলেও অনেককিছু অগোছালো হয়ে যায়। আমার জীবন সবসময় নিয়মের মধ্যে ছিল। এখন আরও বেশি নিয়মের মধ্যে চলতে হচ্ছে। অনেকের বিয়ে হয় না, বিয়ে হলেও বাচ্চা হয় না, আবার ডিভোর্স হয়ে যায়। তবে আমার মনে হয় বিয়ের সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিজীবনে কী হবে না হবে এটা পুরোটাই একজন মেয়ের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত। এখানে কোনো মেয়েকে শাস্তি দেয়া উচিত না।

বিজ্ঞাপন

সন্তান সম্ভবা মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া

মাতৃত্বকালীন দিনগুলো কীভাবে কাটাচ্ছেন?
আমি তো আগের মতো কাজ করে যাচ্ছি। তবে বেশিরভাগ কাজ বাসা থেকে করছি। কিছুদিন পর থেকে গ্যাপ দিয়ে বুঝেশুনে কাজ করবো। আমার ব্যবসা রয়েছে সেখানেও সময় দিচ্ছি। অফিস যেতে হচ্ছে। আর লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। নর্থ সাউথে ই-এমবিএ করছি। এছাড়া ক্রিমিনোলজিতে মাস্টার্স করছি। হাইকোর্টে আইনজীবীর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সামনে পরীক্ষা দিতে হবে। সবমিলিয়ে আমি বসে নেই।

লকডাউনে লম্বা অবসর, সন্তান নেওয়ার বিষয়টি কি পরিকল্পনা করেই?
অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল যখন আমরা সবকিছুতে সেটেল হতে পারবো তখনই সন্তান নেব। ২০২০ সালটাই আমাদের টার্গেট ছিল। সবকিছুই উপরওয়ালার হাতে। তারপরেও আমি মনে করি, জীবনে পরিকল্পনা করে কাজ করা উচিত। তাহলে সামনে এগুতে সুবিধা হয়। ২৩ বছর বয়সে বিয়ে করেছি। সেটাও পরিকল্পনা করেই করেছি। তখন আমার ক্যারিয়ার একেবারে তুঙ্গে। অনেকেই নিষেধ করেছিল। কিন্তু আমার কাছে পেশাদার জীবন এবং ব্যক্তিগত দুটোই প্রাধান্য ছিল। দুটো একসঙ্গে ব্যালেন্স করতে চেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি দিনশেষে একজন মানুষের পরিবার দরকার হয়।

মডেলিংয়ে আছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি…

প্রথম সন্তান মেয়ে নাকি ছেলে, কোনটা চান?
আমি এখনও এটা জানি না এবং জানার ওত আগ্রহ নেই। যদি কখনো আল্ট্রাসনোর মাধ্যমে আগে জানতে পারি তবে নাম রাখা এবং কেনাকাটা করতে সুবিধা হবে। তবে আমি চাইছি, সুস্থ শরীর ও মানসিকভাবে শান্ত থেকে যেন একজন সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারি। ছেলে মেয়ে যাই হোক আমার জন্য আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমার স্বামীও একই কথা বলেছে। তবে মেয়ে হলে হয়তো সে বেশি খুশি হবে।

এই সময়ে পারিবারিক সাপোর্ট কেমন পাচ্ছেন?
আমার দুই পরিবার (শ্বশুরবাড়ি, বাবার বাড়ি) সবসময় আমাকে সাপোর্ট দেয়। এই সময়ে সবাই একটু এক্সট্রা কেয়ার চায়। যেটা আগে থেকেই আমি পেয়ে আসছি। ক’দিন আগে একজন নারী মেইল করে তার দুঃখের কথা লিখেছে। বাসার অমতে সে বিয়ে করে। এরমধ্যে তার স্বামীর চাকরি চলে যায়। সে এখন সন্তানসম্ভবা। এখন কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। সে বলতে চেয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সবার জন্য আনন্দের না। এছাড়া এই সময়ে কতো মানুষের কত সমস্যা! তাই আমার আগের চেয়ে এখন মনে হয় আমি আসলেই খুব ভাগ্যবতী। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ছাড়া আমার আর বলার কিছু নেই।

খেলার মাঠে উপস্থাপনাতেও তিনি অন্যতম

মাতৃত্বকালীন আপনার লাইফস্টাইলে কোনো পরিবর্তন এসেছে?
খুব বেশি না। তবে প্রথম তিনমাস আমি জিম করিনি। কারণ, ওই সময়টা খুব রেসটিকট্রেট বলা হয়। ১৫ তারিখের পর হয়তো একটু ফ্রি হবো তারপর আবার জিমে যাওয়া শুরু করবো।