চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সন্তানের যন্ত্রের ব্যবহারে দুশ্চিন্তা করবেন না

একদল শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, যন্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে শিশুর ক্ষতির সম্পর্ক খুবই কম। তবে কতটা সময় শিশু স্ক্রিনে কাটাচ্ছে সেই সময়ের উপর যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকে তখন বাবা-মাকে চিন্তা করতে হবে।

বাবা-মা যন্ত্র ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে না পারলে অন্তত ঘুমানোর সময়গুলোতে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটা খুবই জরুরি যেন কোনো যন্ত্রের ব্যবহার ঘুমের সময়, শরীরচর্চা ও পারিবারিক সময়কে বাধাগ্রস্ত না করে।

বিএমজের ওপেন মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পরই খবরটা নিয়ে শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। সেখানে প্রশ্ন উঠে আসে শিশুদের কি যন্ত্রের ব্যবহার রোধ করা উচিত নাকি নয়?

একই সময়ে আরেকটি গবেষণা বলছে, ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করলে যতটা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে তা ওই বয়সী একটি ছেলের তুলনায় বেশি।

দ্য রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ (আরসিপিসিএইচ) শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তারা একটি নির্দেশনা তৈরি করেছে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য।

তারা বলছে, যন্ত্রের সামনে থাকাটা যে বিষাক্ত সেটার কোনো ভালো প্রমাণ নেই। বরং সেই সব প্রমাণ পুন:নীরিক্ষণ করে যন্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে স্থুলতা এবং হতাশার সংযোগ পাওয়া গেছে।

Advertisement

তবে সেটার ব্যাখ্যা দিয়ে কলেজের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা পরিস্কার নয় যে যন্ত্রের ব্যবহার করার ফলে এমনটা ঘটেছে নাকি বেশি সময় যন্ত্রের সঙ্গে কাটানো হচ্ছে সেজন্য ঘটছে।

কলেজের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম নির্দিষ্ট করছে না, কারণ সেটার কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ তারা পায়নি। তার বদলে বরং তারা পরিবারগুলোকে কিছু প্রশ্ন করেন, যেন তারা যন্ত্র ব্যবহারের সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রশ্নগুলো হলো
বাড়িতে যন্ত্রের ব্যবহার কি নিয়ন্ত্রিত? যন্ত্রের ব্যবহার কি পরিবারের চাহিদা পূরণে সমস্যার সৃষ্টি করে? যন্ত্রের ব্যবহার কি ‍ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে? যন্ত্র ব্যবহারের সময় টুকটাক খাবার নিয়ন্ত্রণে কি আপনি সক্ষম?

আরসিপিসিএইচের হেলথ প্রমোশন অফিসার ড. ম্যাক্স ডেভি বলেন, ফোন, কম্পিউটার ও ট্যাবলেট বিশ্বকে উন্মোচনের একটি অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু মা-বাবা প্রায়ই দুশ্চিন্তায় ভোগেন এই ভেবে যে, কতটা ক্ষতিকর এটা।  আমরা বলতে চাই, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন আর খুশি থাকুন। জীবন উপভোগ করুন, দুশ্চিন্তা বাদ দিন। তবে সমস্যা তৈরি হলে কঠিন সময়তো থাকবেই। সেটা আরো বেশি বাড়াবে যন্ত্র সময়। তাই সেসবে ভারসাম্য আনতে হবে। যদি যন্ত্র ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে কোনোই সমস্যা নেই।

তবে তাদের এই মতের সঙ্গে মোটেও একমত নয় বেশ কিছু বাবা-মা। আবার কেউ কেউ যন্ত্র ব্যবহারের সময় বেঁধে দিয়েছেন সন্তানকে।

গবেষকরা বলছেন, ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে থেকে আর কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা ঠিক নয়। পরিবারকেই বেছে নিতে হবে সন্তানরা কোন যন্ত্র ব্যবহার করবে এবং সেখানে কি দেখবে।

সেজন্য কিছু বিষয় নির্দিষ্ট করার কথা বলেন তারা, যেমন খাবারের সময় কোনো যন্ত্র নয়। সন্তানের যন্ত্র ব্যবহার বেশি হয়ে গেলে বাবা-মাকেই মধ্যস্থতা করতে হবে। বাবা-মাকে নিজের যন্ত্র ব্যবহার নিয়েও ভাবতে হবে।