চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সন্তানের নিঃসঙ্গতা-বিষণ্নতা খেয়াল রাখতে অভিভাবকদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

অভিভাবকদের সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ‘নিঃসঙ্গতা, একাকীত্ব ও বিষণ্নতা আমাদের সন্তানদের বিপথে যাওয়ার প্রধান কারণ। জঙ্গিবাদের পথে না বাড়ায় সেজন্য আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে একাকীত্ব বিষণ্নতা থেকে বের করে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (আইসিসিবি) আয়োজিত উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের যুবসমাজ অত্যন্ত মেধাবী। যাদেরকে নিয়ে আমরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, গর্ব করি। যাদের নিয়ে আমরা চিন্তা করি ২০৪০,২০৫০ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। সেই সন্তানরা যেন নষ্ট না হয়ে যায় না, বিলীন হয়ে না যায়, সেজন্য আমাদের করার অনেক কিছু আছে। সেদিকে প্রত্যেক অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গি নির্মুলে বর্তমান বাংলাদেশ রোল মডেল পরিণত হয়েছে। এর মূল কারণটা কি? আমরা সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মুলোৎপাটনে সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এর ফলে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে চলে এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছিলেন। জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের পুলিশ র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদকে শক্ত হাতে দমন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আজকে সে কাজটি সুন্দরভাবে করছে বলে আমরা নিরাপদ জায়গাটাতে এসেছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করেই বাংলাদেশের মতো একটি শান্তিপ্রিয় দেশে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ আসবে এটা আমরা বিশ্বাস করতে পারিনা। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস দেখুন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের জায়গা আমাদের দেশে ছিলনা। হ্যাঁ যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়েছে নানান সময়, নানান জাতি আমাদের দেশে এসেছে। কিন্তু এ উপত্যকায়, এই শান্তির দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের কাহিনী ছিল না।

সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের কোন মাদ্রাসায় জঙ্গিবাদ তৈরিতে সহযোগিতা করে না। করতে পারে না। কারণ ইসলাম কোনোদিন জঙ্গিদের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার কথা বলে না। অন্যসব ধর্মের মানুষও হত্যার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বিরোধী।

আমরা সব ধর্মের প্রধানদেরকে নিয়ে ঢাকায় একটা সভা করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা প্রত্যেকে ডিভিশনে যাবো মানুষকে বোঝাবো বাংলাদেশে কোন ধর্মে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের স্থান নেই, কেউ যেন জঙ্গিবাদকে, সন্ত্রাসীদেরকে উৎসাহিত না করে। আমাদের দেশের জনগণ আমাদেরকে উৎসাহিত করেছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। আর এটাই আমাদের ছিল মেকানিজম।

পুলিশ-র‌্যাবসহ আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একের পর এক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নির্মুল করত গিয়ে অনেক সদস্যই শাহাদাত বরণ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে আমি মনে করি শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কার্যক্রম দিয়ে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করলেই এই জঙ্গিবাদকে আমরা মোকাবেলা করতে পারবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ও কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শেয়ার করুন: