চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সঞ্চয়পত্রের আয়ই যাদের একমাত্র উপার্জন

করোনার এই সময়ে অনেক মানুষের আয়ের পথ বন্ধ। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্যে সরকারসহ অনেক প্রতিষ্ঠান আর ব্যাক্তি উদ্যোগে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি টিসিবি’র উদ্যোগে কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল, তেল ও আটা। খোলা রাজপথের কোথাও কোথাও দেখা যায় বিশাল লাইন।

প্রচণ্ড রোদের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বয়স্ক থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরেরা। আবার কোথাও কোথাও রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসে আছে কেউ কেউ, কখন ত্রাণ নিয়ে আসবে সমাজের উচ্চবিত্তের মানুষ। ভ্যানে করে বা পিকআপ ভ্যানে করে ত্রাণ নিয়ে কেউ আসছে শুনলে দৌড়ে যায় এরা।

বিজ্ঞাপন

রিকশাচালক থেকে শুরু বিভিন্ন পরিবহনের হেলপার, কনডাক্টর, ফুটপাতের হকার, বস্তির ছিন্নমুল মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি এই আশায় রাজপথে তীর্থের কাকের মত বসে থাকে।

কিন্তু যারা এই পথে দাঁড়াতে পারে না? তাদের কি হবে?
আসল প্রসঙ্গে আসি। সঞ্চয়পত্র যারা গত বছর জুলাই মাসের ১ তারিখে কিনেছে শুধু তাদের মুনাফার টাকা সরাসরি অনলাইনে যার যার ব্যাংক একাউন্টে চলে যাচ্ছে। আর যারা ডাকঘর সঞ্চয় ব্যুরো থেকে আগে কিনেছে তাদেরকে সেই ব্যুরোতে গেলেই ব্যাংকের মাধ্যমে মুনাফা পাওয়া যাবে। কিন্তু গত ২৯ মার্চ থেকে সঞ্চয় ব্যুরো অফিসগুলো বন্ধ। আবার এই সঞ্চয়পত্র যারা ব্যাংক থেকে কিনেছে তাদের কোনো সমস্যা নেই। অটোমেটিক তাদের একাউন্টে চলে যাচ্ছে মুনাফা মাসের নির্দিষ্ট তারিখে।

বিজ্ঞাপন

সমস্যায় আছেন সেই মানুষেরা, যারা ডাকঘর সঞ্চয় ব্যুরোর শাখা থেকে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন ২০১৯ এর জুলাই মাসের আগে। যাদের ভেতর বয়স্ক মানুষই বেশি। যারা মাসের নির্দিষ্ট দিনে এসে নিজেদের পেনশনের টাকায় কেনা বা সারাজীবনের সঞ্চয়ের অর্থে কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতেন। এই মুনাফার টাকায় চলে যেত কোনো রকমে সংসার। গত দেড় মাস ধরে সঞ্চয় ব্যুরোর অফিস বন্ধ হওয়ায় নেই কোনো আয় তাদের। তারা না পারে কারো কাছে হাত পাততে না পারে ত্রাণের আশায় ফুটপাতে দাঁড়াতে।

সরকার সবার জন্যে সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দিচ্ছে। ব্যাংক খুলে দিয়েছে সীমিত পরিসরে আগেই। দোকানপাট-পোশাক কারখানাও কিছু খোলা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা ঘোষণা করা হচ্ছে এক এক করে সব সেক্টরের জন্যে। শুধু ওই মানুষদের জন্যে নেই কোনো ভাবনা সরকারের। এমনটাই জানালেন ফোন করে একজন।

ঈদের আগে কি খোলা যায় না ডাকঘর সঞ্চয় ব্যুরোর অফিস? সীমিত পরিসরে কঠোর বিধি নিষেধ মেনে?

অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল কি ভেবে দেখতে পারেন না বিষয়টি? অনেকের বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ে আছে। নিজেদের বয়স্কজানিত নানা অসুখ বিসুখের জন্যে ওষুধ কেনার জন্যে তো টাকা প্রয়োজন হয় প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অংকের। এসব টাকার জন্যে কারো কাছে যাতে হাত পাতা না লাগে সে জন্যে সীমিত পরিসরে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যুরোর শাখাগুলো খোলার বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)