চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে জুন ও জুলাইতে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

নতুন ও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে আগামী জুনে এসএসসি এবং জুলাইতে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন: ইতোমধ্যে যে সিলেবাস এসএসসির জন্য দেয়া হয়েছে সেটা প্রত্যাহার করা হবে। আশা করছি আগামী ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারিরে মধ্যে নতুন সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দেয়া হবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যদি আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারি, তাহলে এসএসসি ও এইচএসসির যে ক্লাসের সময় শিক্ষার্থীরা পাবে, তার ওপর ভিত্তি করে জুন এবং জুলাইতে পরীক্ষা নেয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন:  এর মধ্যে বিভিন্ন ছুটি বাদ দিয়ে ৬০ দিন ক্লাসের সময় পাওয়া যাবে। একেকদিন ৬ টা করে ক্লাস হয়। মোট ৩৬০টা ক্লাস পাওয়া যাবে। এসএসসিতে ১২টা সাবজেক্ট। সেক্ষেত্রে গড়ে ৩০টা ক্লাস পাবে শিক্ষার্থীরা।

তিনি বলেন: এসএসসিতে যদি তিন মাস অন্তত ক্লাস করাতে পারি, আর এইচএসসিতে যদি মাস চারেক ক্লাস করাতে পারি-আমরা পরীক্ষা নিতে পারবো। আমরা আশা করি যে, সপ্তাহে ছয় দিন করে ক্লাস করানো যাবে। হিসাব করে দেখলাম যে, একেক সাবজেক্টে একেক রকম ক্লাস হয়। এটি যারা সিলেবাস প্রণয়ন করবেন তারা জানেন। সে অনুযায়ী তারা ভাগ করে নিয়ে কোন সাবজেক্টে কতগুলো ক্লাস হবে তা ঠিক করে তার ওপর পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন: ১টি সাবজেক্টে ৩০টা ক্লাস হবে। সে সাবজক্টে কতটুকু পড়ানো যায়, কতটুকু একটা শিক্ষার্থী নিতে পারবে সেটা মাথায় রেখে নবম ও দশম শ্রেণির পুরো সিলেবাসের যেটুকু নেওয়া জরুরি এবং জানা জরুরি সেটুকু নিয়ে  ৩০টা ক্লাস সাজানো হবে। ধরুন এক সপ্তাহে তারা ৩টা ক্লাস করলেন একটি সাবজেক্টে।কিংবা দেড় সপ্তাহ মিলে দুটা চ্যাপ্টার শেষ হলো। অর্থাৎ দুটা চ্যাপ্টার শেষ করার পর শ্রেণি শিক্ষক একটা ছোট টেস্ট নেবেন। এটি বড় পরীক্ষা না। রুটিন নিয়ে পরীক্ষা না। এর জন্য কোনো ফি কোনো প্রতিষ্ঠান নিতে পারবে না। এ পরীক্ষাগুলো শ্রেণি শিক্ষক নেবেন। যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা যেটা যখন পড়ছেন, সেটার ওপর পরীক্ষা দিয়ে ভালোভাবে ঝালাই করে নিতে পারেন।

এইচএসসি পরীক্ষা বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন: এইচএসসির জন্য আমরা যদি ১৫ জুন পর্যন্ত ক্লাস নিতে পারি তাহলে তারা মোটামুটি ৮৪ দিন ক্লাস পাবে, মোট ক্লাস হয় ৫০৪টা। সাবজেক্ট ভেদে  ৩৮টা ক্লাস হয়। সেটাও সিলেবাস অিনুযায়ী ভাগ করে নেওয়া হবে। সেখানেও শ্রেণি শিক্ষক ছোট করে ক্লাস টেস্ট নিতে পারবেন। এর বাইরে কোনো পরীক্ষা নিবে না। জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যাবে আশা করি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সাবজেক্টের মানবণ্টন সিলেবাসে দেওয়া থাকবে। তারপরও যদি কারো কোনো প্রশ্ন থাকে, আমাদেরকে জানাতে পারবেন। যদি মাঝপথে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হয় ভেবে দেখা যাবে। তবে আমার মনে হয় এরপর আর বেশি কিছু পরিবর্তন করতে হবে না।

তিনি বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, ২০২০ সালে অটোপাস দেওয়া হয়েছিলো এখন কেন নয়? যারা অটোপাস করেছেন তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। পরীক্ষার দুদিন আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তারা তাদের সব বিষয়ে ভালোভাবে পড়ালেখা করেছেন, প্রস্তুতি নিয়েছেন। কাজেই তাদের পরীক্ষা না নিলেও চলতো। এখন যারা তারা তো নিজেরাই বলছেন, এক বছর ক্লাস করেননি। যদি তা হয় কীভাবে আমরা তাদেরকে পরের ক্লাসে উঠিয়ে দিই?

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা দিতে হলে পড়তে হবে। জন্য ৩/৪ মাসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দিচ্ছি। যেটুকু পড়ানো হবে সেটুকুর ওপর পরীক্ষা হবে। কাজেই তাদের চাপের ও হতাশার কোনো কারণ নেই। শুধু আমি আশা করবো যে, তারা মনোযোগী হবেন, আত্মবিশ্বাসী হবেন এবং তারা এই সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবেন।