চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা সংক্রমণের হার গত ১ মাস ধরে পাঁচ শতাংশের নিচে

দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের ৩৪৮তম দিন আজ। গত ১ মাস যাবত দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস পর আক্রান্ত শনাক্তের হার গত ১৪ জানুয়ারি পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে আসে। শতাংশের হিসাবে সবশেষ এই হার ছিল গত বছরের এপ্রিল মাসে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তারপর কয়েকদিন তা কিছুটা বেশি হলেও ১৯শে জানুয়ারি থেকে সংক্রমণের হার টানা পাঁচ শতাংশের নিচে রয়েছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৫ জনের মৃত্যুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৩২৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৬৭৮জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় (অ্যান্টিজেন টেস্টসহ) ১৪ হাজার ৬০৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৯১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এই সময়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

তবে শুরু থেকে মোট পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সরকারী ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৩৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ৮১ হাজার ৯২৫টি নমুনা। অর্থাৎ, মোট পরীক্ষা ৩৯ লাখ ৮ হাজার ২৫৭টি নমুনা।

এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৬৮ জন। তাদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ৬৭৮ জনসহ মোট ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৩২ জন সুস্থ হয়েছেন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও তিন জন নারী। তাদের সবাই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারাসহ মৃতের মোট সংখ্যা আট হাজার ৩২৯। মোট শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৫৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৩০৫ জন পুরুষ মারা গেছেন যা মোট মৃত্যুর ৭৫ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ২ হাজার ২৪ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন যা মোট মৃত্যুর ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ১৫ জনের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ১ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ১ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চার জন এবং ষাটোর্ধ্ব নয় জন রয়েছেন। আর বিভাগওয়ারী হিসাবে ঢাকা বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রামে দুই জন, রাজশাহী বিভাগে এক জন ও রংপুর বিভাগে এক জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশ কিংবা এর নিচে থাকলে এবং চার সপ্তাহ সেই হার অব্যাহত থাকলে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধরে নেয়া যাবে। বাংলাদেশে গত চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ রাজধানীকেন্দ্রিক ছিল। রোগী শনাক্তের হারও কম ছিল। ওই বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেটি ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। তারপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হার কমে যায়। কিন্তু মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়।

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক নতুন রোগী শনাক্তের গড় দুই হাজার ছাড়ায়। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে নতুন রোগী শনাক্ত এবং শনাক্তের হার কম। তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে। চলতি বছরের অধিকাংশ দিন এক হাজারের কম রোগী শনাক্ত হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই নিম্নমুখী ধারার মধ্যেই গত ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে কোভিড-১৯ এর গণ টিকাদান কার্যক্রম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু আমরা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করি, বাতাসে প্রচুর ধুলাবালু। তাই আমরা যদি মাস্ক ব্যবহার করি তাহলে শুধু কোভিড নয় মৌসুমী যে কোন ফ্লু থেকেও আমরা রক্ষা পাবো। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি আর মাস্ক ব্যবহার করতে পারি, ভ্যাকসিন গ্রহণ করি; তাহলে দেশ থেকে কোভিড নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্মূল সম্ভব।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১১ কোটি চার লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ২৪ লাখ ৪২ হাজারের বেশি মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৮ কোটি ৫৩ লাখের বেশি।

বিজ্ঞাপন